গাজীপুরের গাছায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে ত্রাস: চাঁদা না পেয়ে মুফতির বাড়িতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা ও ভাঙচুর
স্টাফ রিপোর্টার :
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন এলাকায় জমি কেনাকে কেন্দ্র করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে এক মুফতির বাড়িতে প্রকাশ্যে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাং। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দিনের আলোয় সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকায়। ভুক্তভোগী হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা আলহাজ্ব মুফতি আব্দুল কাদের মোল্লা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে মুফতি আব্দুল কাদের মোল্লা কলমেশ্বর এলাকায় একটি জমি ক্রয় করেন। জমি কেনার পর থেকেই স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য মোঃ জয় মণ্ডল তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জয় মণ্ডল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে জয় মণ্ডলের নেতৃত্বে ৯ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল দা, চাপাতি, রামদা ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুফতির বাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে মুফতির ছেলে সাইফুল্লাহ বাধা দেন। এ সময় জয় মণ্ডল রামদা দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করলে সাইফুল্লাহ ছাদে উঠে পালিয়ে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন।
হামলাকারীরা পরে বাড়ির গ্যারেজে রাখা একটি টয়োটা নোহা স্কয়ার (ঢাকা মেট্রো-চ ৫২-২৮৬১) গাড়িতে লোহার রড দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।
মুফতি আব্দুল কাদের মোল্লা জানান, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের খুন করার হুমকি দিয়ে বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করে। তিনি আরও বলেন, এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দিনের আলোয় এমন তাণ্ডব চললেও এখনো অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—তবে কি পুলিশ এসব কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ?
এ বিষয়ে গাছা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন,
“ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”