ঠাকুরগাঁওয়ে এক মঞ্চে জনগণের মুখোমুখি সব প্রার্থী দুর্নীতিমুক্ত শাসন ও জবাবদিহির অঙ্গীকার
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা:
‘একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কোনো পদ নেই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের প্রার্থীদের নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পীরগঞ্জ উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে উন্মুক্ত মঞ্চে সুজন ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সরাসরি জনগণের সামনে হাজির করে তাঁদের উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন ও ভোটারদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করাই ছিল আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
সুজন ঠাকুরগাঁও জেলা ফ্যাসিলিটেটর হাসান বাপ্পির সার্বিক সহযোগিতায় এবং জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. নাজমুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন পীরগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি নসরতে খোদা রানা। পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অনুষ্ঠানে সব প্রার্থী একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
বিএনপির প্রার্থী মো. জাহিদুর রহমান যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের কথাও বলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা গঠনের অঙ্গীকার করেন। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, ফসল সংরক্ষণের জন্য গুদাম নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মামুনুর রশিদ শিল্পকারখানা স্থাপন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রানীশংকৈল ডিগ্রি কলেজ সরকারি করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আল আমিন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সরকারি হাসপাতাল আধুনিকায়নের কথা বলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. আশা মনি নারীর ক্ষমতায়ন ও সীমান্ত এলাকার উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থীরাও অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পক্ষে মতামত দেন।
সুজন ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি আবদুল লতিফ বলেন, ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি সংলাপ তৈরির লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষে সব প্রার্থী সুজনের অঙ্গীকারনামার সঙ্গে একমত পোষণ করে দুর্নীতিমুক্ত শাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার শপথ নেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।