পুঠিয়ায় ১০ কাঠা জমিতে ৯২ মন হলুদ উৎপাদন, কৃষক মিজানের সাফল্যে চমক
স্টাফ রিপোর্টার,
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় অল্প জমিতে বিপুল পরিমাণ হলুদ উৎপাদন করে নজির সৃষ্টি করেছেন কৃষক মো. মিজানুর রহমান (মিজান)। উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের এই কৃষক মাত্র ১০ কাঠা জমিতে পাবনাইয়া জাতের হলুদ চাষ করে পেয়েছেন মোট ৯২ মন ফলন, যা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষক উৎসাহিত হয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, হলুদ উত্তোলনের সময় প্রতিটি গাছের ছড়িতে দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত হলুদ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে হলুদ ক্রেতা মাসুদ রানা বলেন,
“আমি রাজশাহী জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে হলুদ কিনে থাকি। কিন্তু আমার ব্যবসায়িক জীবনে এমন ফলনশীল হলুদ আগে কখনও দেখিনি। পুঠিয়ার গন্ডগোহালী গ্রামে এসে ১০ কাঠা জমি থেকে নিজ হাতে ৮০ মন হলুদ ওজন করেছি। পাবনাইয়া জাতের এত ফলনশীল হলুদ এই অঞ্চলে প্রথম দেখলাম।”
হলুদ চাষি মিজানুর রহমান বলেন,
“আমি পাবনাইয়া জাতের হলুদ চাষ করেছি। ১০ কাঠা জমিতে বিক্রির জন্য ৮০ মন হলুদ পেয়েছি। পাশাপাশি নিজের জমিতে বীজ হিসেবে রাখার জন্য ৪ মন হলুদ এবং প্রায় ৮ মন হলুদের মোথা ঘরে নিয়েছি। সব মিলিয়ে মোট ফলন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২ মন।”
তিনি আরও জানান, এই চাষে তার মোট খরচ হয়েছে ২২ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি মন ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে হলুদ বিক্রি করেছেন। অন্য কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“বীজ কেনার সময় যদি বাজার দামের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি খরচও হয়, তবুও ভালো মানের বীজ সংগ্রহ করবেন। ইনশাআল্লাহ, তাহলে এমন ফলন পাওয়া সম্ভব এবং লাভবান হওয়া যাবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন,
“আমরা সব সময় কৃষকদের পাশে আছি এবং থাকবো। উঁচু জমি, আমবাগান কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে হলুদ চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতে বিদেশেও হলুদ রপ্তানি করা সম্ভব।”