রাজনীতির মাধ্যমে দেশ রক্ষা করা যায়,  আবার দেশ বিক্রিও হয়ে যায়

রাজনীতির মাধ্যমে দেশ রক্ষা করা যায়,  আবার দেশ বিক্রিও হয়ে যায়

Sep 23, 2026

এম এ রউফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনীতি করা বা কোনো আদর্শের চর্চা করার অর্থ কাউকে অবমাননা, অপমান কিংবা অশালীন ভাষায় আক্রমণ করা নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা প্রকাশ করতে হবে ভদ্রতা, সৌজন্যবোধ ও যুক্তিনির্ভর ভাষায়—এমন মন্তব্য করেছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্যোক্তা ও সংগঠক এম এ রউফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জেরে গালাগালি ও অশালীন মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রাজনীতি করলে কি খারাপ কথা বলা যাবে? আমরা দেশকে সোনার বাংলা বলি। কিন্তু সেই সোনার বাংলা কোথায় গেল? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছি, তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কী শিক্ষা রেখে যাচ্ছে—এটা আমাদের ভেবে দেখা উচিত।” তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও জরুরি। ভিন্নমত পোষণকারী কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ বা অপমান করা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় নয়। রাজনৈতিক আলোচনা হওয়া উচিত যুক্তি, তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে। এম এ রউফ আরও বলেন, “প্রবাদে আছে—‘কয়লা ধুলে ময়লা যায় না।’ এই কথার অর্থ আমরা কতটুকু বুঝি? আমরা মানুষ হবো কবে? আমাদের কথাবার্তা, আচরণ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মানবিকতা ও শালীনতার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।” তিনি বলেন, রাজনীতি হওয়া উচিত নীতি, আদর্শ ও চেতনার চর্চা। জনগণের কল্যাণ, দেশের স্বার্থ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মতের বিরোধিতা করা যেতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিকে অপমান করা উচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আপনারা যে খারাপ কথাবার্তা বলেন, আপনাদের আদর্শ ও চেতনা কী? রাজনৈতিক আদর্শের নামে অন্যকে গালাগালি করার মাধ্যমে আমরা আসলে কী শিক্ষা দিচ্ছি? প্রশ্নের উত্তর আপনাদেরই দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, একটি উন্নত ও সভ্য সমাজ গঠনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি অপরিহার্য। মানুষের ভাষা ও আচরণ তার শিক্ষা ও মূল্যবোধের পরিচয় বহন করে। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ভাষা ও আচরণে সৌজন্য বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। এম এ রউফ বলেন, আজকের কর্মকাণ্ডই আগামী প্রজন্মের কাছে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতির উদাহরণ হয়ে থাকবে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সবক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও মার্জিত ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সুন্দর, মানবিক ও সভ্য সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। চাইলে আমি এর আরও ছোট ও শক্তিশালী হেডলাইন দিয়ে পত্রিকার প্রথম পাতার উপযোগী সংস্করণও তৈরি করে দিতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *