বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর আলোচনা – সমালোচনা, গরিবের বউ মানেই সকলের ভাই বউ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর আলোচনা – সমালোচনা, গরিবের বউ মানেই সকলের ভাই বউ

Jul 7, 2026

 

অথই নূরুল আমিন

বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ‍্য চীন সফর ও মালয়েশিয়া সফর ঘিরে দেশে- বিদেশে চলছে তুমুল আলোচনা -সমালোচনা। তবে কথা থাকে যে, বাংলাদেশ একটা অগোছালো দেশ। একটা গরিব দেশ। প্রথমেই যদি বলি মালয়েশিয়ার কথা। বাংলাদেশের লাখ লাখ শ্রমিক মালয়েশিয়া গিয়ে দিনমজুরের কাজ করছে। মালয়েশিয়ার সরকারের কাছে বাংলাদেশ একটা দরিদ্র দেশ। তাই বাংলাদেশের একজন প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মনে মনে ভাববে এবং লাখ লাখ শ্রমিকের সর্দার হিসেবে জানবে এর বেশি কিছু নয়। মালয়েশিয়ার সরকারের বাংলাদেশের কাছে কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। তাই বাংলাদেশের একজন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মালয়েশিয়া সরকারের তেমন কোন মাথা ব‍্যথা ও থাকার কথা নয়। যেটুকু আপ‍্যায়ন করা হয়েছে এটা শুধুমাত্র সামাজিকতা রক্ষা ছাড়া কিছুই নয়। তারপর বলি চীনের কথা। চীন মূলত সমগ্র বিশ্বজুড়ে ব‍্যবসা করার জন্য তারা পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রের সাথে কখনও গোপনীয় ভাবে কখনও প্রকাশ‍্যে কখনও কৌশলে সম্পর্ক করে থাকে। চীন মূলত একটা রাষ্ট্রের জন‍্য যেকোনো সাহায্যর হাত বাড়াক না কেন। আগে দেখবে তাদের লাভ বা ব‍্যবসা কিভাবে করা যায়। সত্যি কথা বলতে গেলে চীন যাই করবে লাভ ছাড়া কিছু করবে না। তাহলে বাংলাদেশ সরকারের লাভ কী? আসলে কিছু না। মেয়াদ শেষে এক সাগর পরিমাণ বদনাম ছাড়া আর কিছু থাকে না। বিশেষ করে গত চার যুগ ধরে বাংলাদেশে যত সরকার এসেছে। তারা কেউ জনকল্যাণে কিছু করতে পারেনি। সবাইকে দেখেছি তরকারি হওয়ার পরে লবণ দিয়েই কাজে শরীক হয়েছে। কেউ নতুন কিছু দেখাতে পারেনি। এক সরকার এসে যেখানে নতুন রাস্তা তৈরী করেছে। আরেক সরকার এসে দেখে ঐ রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। তখন সেই রাস্তা মেরামত স্কুল কলেজের দরজা জানালা মেরামত করতে করতে সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীন ও মালয়েশিয়া সফরে গিয়েছেন। কিন্তু চীন এবং মালয়েশিয়ার কোনো নীতিমালা বাংলাদেশে প্রয়োগের জন্য কোনো উদ্যোগ বতর্মান সরকার নিবে না। তাহলে এই সকল উন্নত দেশ সফর করে লাভ কি? আহলে কিছুই না। আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা মূলত রাষ্ট্রের কল‍্যাণে তারা কোনো পরামর্শক নন। অনেকের তো গবেষণা করতেই করতেই পাঁচ বছর চলে যায়। জনগণ আর কিছু পায় না। তবে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে এই কথা নিশ্চিত করে বলা যায়। চীন এবং মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখার দেশ নয়। মালয়েশিয়া বাংলাদেশীদের নকরি করার জন্য সুযোগ কিছু বাড়াতে পারে। আর চীন হলো তারা ব‍্যবসা করতে আসবে। সামনে দিয়ে কুড়ি টাকার লোভ দেখিয়ে পিছনে দিয়ে কুড়ি হাজার আয় করে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের উচিৎ সেই সব দেশের সাথে বেশি আন্তরিকতা করা যেসব দেশে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি করা যাবে বেশি বেশি। এবং সহজ দামে দেশের প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা যাবে । বাংলাদেশকে সয়ংসম্পূর্ণ করতে হলে আরো গভীরভাবে গবেষণা করতে হবে। শত বছরের পিছনে পরা জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে দেশের বেকার কমাতে হবে শতভাগ। শিক্ষায় আনতে হবে ব‍্যাপক পরিবর্তন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *