জামায়াতের মুক্ত জীবন, দেশজুড়ে চলছে কার্যক্রম, সংসদে আজকে অর্ধ ক্ষমতার ভাগিদারও বটে!

জামায়াতের মুক্ত জীবন, দেশজুড়ে চলছে কার্যক্রম, সংসদে আজকে অর্ধ ক্ষমতার ভাগিদারও বটে!

Aug 8, 2026

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

অথই নূরুল আমিন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, একটি নাম, একটি সংগঠন, একটি দীর্ঘ প্রতীজ্ঞার উত্থান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে কিন্তু রয়েছে নানারকম বদনাম, ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পূর্বে অর্থাৎ স্বাধীনতার পর থেকে, দেশের ডান – বাম রাজনৈতিক দলগুলো যখনই এই জামায়াত নিয়ে বক্তব্য দিতেন বিভিন্ন বক্তা। তখন জামায়াত মানেই অপরাধী। যুদ্ধ বিরোধী, লুঠপাট কারী ইত্যাদি ইত্যাদি, কথায় আলোচনায় বক্তব্যে কটাক্ষ করা হতো সবসময়, দেশের জনগণ তাই শুনে আসছে দেখে আসছে । জামায়াতের নেতা মরহুম গোলাম আযমসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ছবি ব‍্যঙ্গ করে, সরকারিভাবে লাখ লাখ টাকা খরচ করে দুই চারটি ব‍্যাঙ্গ শ্লোগান সংযুক্ত করে পোস্টার পর্যন্ত করা হয়েছে। সারা দেশ জুড়ে তা ওয়ালে- দেয়ালে সাটিয়ে পর্যন্ত জামায়াত বিরোধী প্রচার করা করেছে বিভিন্ন সরকার ও বিভিন্ন মহল। তবে সাধারণ জনগণের মাঝে তা নিয়ে তেমন জল্পনা – কল্পনা ছিলো না এমনটি বলাই চলে। তবে জামায়াত নিয়ে অনেক রাজনৈতিক দল এমনকি কিছু কিছু সামাজিক সংগঠনের নেতারাও বদনাম করে বক্তব্য দিয়েছেন। এর মধ‍্যে আওয়ামী লীগ যেন জামায়াতের নাম পর্যন্ত শুনতে পারত না। এমনকি জামায়াতের সকল কার্যক্রম ধ্বংস করে দেবার সবরকম আয়োজন করেও জামায়াতের অগ্রযাত্রা রোধ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর থেকেই এই জামায়াত নিয়ে জামায়াতের গোলাম আযমসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বিভিন্ন কুৎসিত মন্তব্য দেশের প্রায় অন‍্যসব রাজনৈতিক দলের নেতা- নেত্রীরা কথায় কথায় অপমানজনক বক্তব্য দিতে শোনা যেত। অথচ এই জামায়াতে ইসলামীর সাথে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক জোট করেছে। বিএনপির সাথেও রাজনৈতিক জোট হয়েছে দীর্ঘদিন। তারপরও জামায়াতের বদনাম বলা, কুৎসিত বক্তব্য দেয়া থেকে তারা কেউ বিরত হননি। এটা যেন জামায়াতের জন‍্য সত্যি সত্যি কোনো অলৌকিক অভিশাপ ছিলো! এই জামায়াতের প্রতি বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে যেন সাপ বেজির মতো রেষারেষি চলছিলো চরমভাবে। আওয়ামী লীগ নেত্রী এই জামায়াতের প্রতি এতোটাই ক্ষিপ্ত ছিলেন যে, আন্তর্জাতিক আদালত সৃষ্টি করে জামায়াতের শীর্ষ বেশ কয়েকজন নেতাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে পর্যন্ত । তারপরও জামায়াতের নেতাকর্মীরা কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে আত্নসর্মপন করেননি। জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে খুবই সাবধানে নীরবে তাদের দলের প্রচার এবং তাদের দাওয়াত দিয়েই গেছেন। জেল,জুলুম,মৃত্যু পরোয়ানার ভয় করেননি কেউ। তবে কথা থাকে যে, জামায়াতের সবাই সবসময় আতঙ্কে থাকতেন, কখন তাদেরকে পুলিশে ধরে নিয়ে যায়। ধরে নিয়ে গেছেও। তাদের ভয় ছিলো কখন তাদের উপরে আক্রমণ হয়। আক্রমণ হয়েছেও। এভাবে পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে সাপ লুডু খেলা খেলতে খেলতে বারবার হেরে গিয়েও ধৈর্য্য হারা হননি কখনও বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। অবশেষে জামায়াতের রাজনৈতিক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তালা পর্যন্ত ঝুলিয়ে দেয়। তারপরও জামায়াত তাদের নীতি,তাদের লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে যাননি মোটেও। শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে জীবনযাপন এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন একযোগে সবকিছু । আজকে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বেশ ভালো ভূমিকা পালন করে চলেছেন বলে সচেতন মহল মন্তব্য করছেন । জামায়াতের এমপিগণ এবং সাথে রয়েছে এনসিপির প্রথম সারির নেতা নেত্রীগণও। আগামীতে জামায়াতের উজ্জ্বল ভবিষ্যত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী নিয়ে আমার অসংখ্য লেখা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদী লেখাও আমার রয়েছে। প্রিয় পাঠক, তা অন‍্য একদিন পড়ে নিবেন আশাকরি।

অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক
৭ ই আগস্ট ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *