লিথী গ্রুপের পাঁচ কারখানায় তালা, অনিশ্চয়তায় আড়াই হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ

লিথী গ্রুপের পাঁচ কারখানায় তালা, অনিশ্চয়তায় আড়াই হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ

Jul 3, 2026

 

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অবস্থিত লিথী গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১ জুলাই) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কারখানার পরিচালক মনিরুজ্জামান বুধবার রাত পৌণে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) কারখানার প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়। বন্ধ হওয়া ইউনিটগুলো হলো—অ্যাপারেল-২১ লিমিটেড, ফমকম ফ্যাশন লিমিটেড, ফমকম ডাইং লিমিটেড, ফমকম প্রিন্টিং লিমিটেড এবং ফমকম নিটিং লিমিটেড। কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকা, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত অর্ডারের সম্ভাবনা না থাকা, বারবার শ্রম অসন্তোষ, পণ্যের বিক্রয়মূল্য কমে যাওয়া এবং সময়মতো ব্যাংকিং সহায়তা না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মুখে ছিল। ফলে মালিকপক্ষের পক্ষে কারখানা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, ব্যাংক থেকে সময়মতো আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে সকল পাওনা পরিশোধ করা হবে। ভবিষ্যতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে পুরোনো দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দিয়ে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকাশ আহম্মেদ বলেন, লিথী গ্রুপের সব কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পোশাক শিল্পের এ সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এর আগে ২৪ জুন বাঘের বাজার এলাকায় ফমকম ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানা চালু ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেন। শ্রমিকরা জানান, গত ৭ জুন বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষ ২৩ জুন বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। নিয়মিত আয় না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তারা দ্রুত বকেয়া বেতন, অন্যান্য পাওনা পরিশোধ এবং কারখানা পুনরায় চালুর দাবি জানান। গাজীপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম. এম. মামুন-অর-রশিদ বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে দ্রুত টঙ্গীতে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকের মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *