একটি সরকারের বিদেশনির্ভর ভাবনা, চীন সফরও জাপান সফরের প্রতিশ্রুতি, তোলা দুধে কি পোলা বাঁচে

একটি সরকারের বিদেশনির্ভর ভাবনা, চীন সফরও জাপান সফরের প্রতিশ্রুতি, তোলা দুধে কি পোলা বাঁচে

Oct 30, 2026

অথই নূরুল আমিন

গত কিছুদিন আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী?চীন সফর করে এলেন। তার সাথে সাথে এক শ্রেণির মিডিয়া সরকারের পক্ষে বিভিন্ন বিষয় প্রচার করে জানিয়ে দিয়েছেন । চীন এই করবে, চীন সেই করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এদিকে গত সপ্তাহে চারদিনের সফর শেষ করে জাপান থেকে ঢাকায় ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখানেও ট্টিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি জনশক্তি নিবে এবং অসংখ্য বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত নিবে ইত্যাদি ইত্যাদি। দেশের এক শ্রেণির জনগণ ও সরকারকে বাহবা বাহবা দিয়ে যাচ্ছে। আসলে আমাদের সরকার গুলোর চিন্তা চেতনা গুলো সত্যি সত্যি ফকিরানা ফকিরানা ভাব, যা আমার কাছে মনে হয়। কারণ সব সরকারের আমলেই এরকম ধামাকা আয়োজন দেখে আসছি। কিন্তু চালের দাম মাংসর দাম ডিমের দাম কমতে দেখলাম না। চীন সফর জাপান সফর এসব সফর গুলো আসলেই জনকল্যাণের কোনো কাজ নয়। বিদেশনির্ভর ভাবনা কথায় আছে , তোলা দুধে পোলা বাঁচে না। স্বাধীনতার চার যুগের বেশি সময় ধরে, দেশের সরকার প্রধানেরা প্রায়সময় উন্নত দেশের আমন্ত্রণে বহুবার তারা অনেকেই সফর করেছেন। কিন্তু এই জাতি সেই সকল সফরের কোন সুবিধা পায়নি কখনও । বিশেষ করে দেশের সাধারণ জনগণের কথা বলছি আমি। বছর শেষে সেই মাথাপিছু ঋণের বোঝা বাড়ছেই। এখানে প্রশ্ন থাকতে পারে, সাধারণ জনগণ কারা? উত্তর হলো সাধারণ জনগণ তারা। যারা দৈনিক হাজিরার কাজ করেন। যারা গার্মেন্টস বা ছোট ছোট মিল- ফ‍্যাক্টরীতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। গত ছয় মাস আগেও ফার্মের মুরগির ডিম চল্লিশ টাকা হালি ছিলো, যা আজকে পঞ্চাশ থেকে বায়ান্ন টাকায় কিনে খেতে যাদের কষ্ট হচ্ছে। আমি তাদের কথা বলছি। চীন ও জাপানের দোয়াই দিয়ে সরকার হয়তো দেশের সুশীল সমাজের মন জয় করতে পারবেন। চীন ও জাপান যদি এখানে লাখো কোটি ডলার বা হাজার হাজার ট্টিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেন। তাতে কী গরুর মাংসর কেজি ৭০০ টাকা হবে? ফার্মের মুরগি কি দেড়শ টাকা কেজি হবে? ডিমের হালি কি চল্লিশ টাকায় ফিরে আসবে? আসবে না বা যদি না আসে তাহলে এসবই বোকাস্। এসবই সরকারের সাথে থাকা জগৎশেঠ গংদের কারসাজি ছাড়া কিছুই নয়। ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে একটি সরকারের জনপ্রিয়তা খুব বেশিদিনের জন্য স্থায়ী হয় না বা হতে পারে না। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি, বাংলাদেশের সরকারের চিন্তাশক্তি গুলো খুবই দুর্বল এবং খুবই লজ্জাজনক। কেননা চীন জাপান এখানে কি বিনিয়োগ করবে এটা একান্তই তাদের ব‍্যাপার। যদি তারা ( চীন জাপানসহ যেকোনো দেশ ) বিনিয়োগ করে করুক। না করলে নাই। বাংলাদেশ সরকারের চিন্তা ভাবনা থাকতে হবে, যদি কোনো দেশ বিনিয়োগ না করে তাহলে আমরা কিভাবে চলবো। কিভাবে রাষ্ট্র চলবে। কিভাবে অর্থনৈতিক সচ্ছল হবে। কিভাবে জাতি ভালো থাকবে ইত্যাদি ইত্যাদি। বতর্মান সরকারের পরিকল্পনা মতে এখনো সেরকম চিন্তা ভাবনার কিছুই দেখছি না। জনগণকে কলা দেখিয়ে সময় পার করবেন তো করেন। পরিস্কার আকাশেও কিন্তু বৃষ্টি আসতে পারে। এটা ভুলে গেলে কি চলে। আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলতে চাই। নকল সবকিছুই খারাপ এ কথা মনে রাখবেন সবসময় । বিদেশী বিনিয়োগ কিন্তু কখনও দেশের স্বার্থ রক্ষা করে না। যারা বিনিয়োগ করবে আসলে লাভ তাদেরই বেশি হয়ে থাকে । এটা আমি জানি আপনি জানেন কিনা জানি না । বিদেশী বিনিয়োগ থেকে আপনি দেশের শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে পারবেন না। খাল খনন করতে পারবেন না। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন করতে পারবেন না। দেশের প্রায় তিন কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব‍্যবস্থা করতে পারবেন না। দেশের প্রায় আড়াই কোটি গৃহহীন, ভূমিহীন – ভাসমান জনগণের পূনর্বাসন করতে পারবেন না। পারবেন প্রতি মাসে দুইশ থেকে পাঁচশ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে দিয়ে ভ‍্যাট ট‍্যাক্স বাড়িয়ে নিয়ে রাষ্ট্রের খরচ চালাতে। একটি সরকারের এক বছর পূর্ণ না হতেই দেশের কয়েক হাজার পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়ে গেলো। এতেই প্রমাণিত হয় যে, সরকারের নিজস্ব কোনো আয় রোজগার নেই। সবই জনগণের পয়সায় সরকারের বাহাদুরি। এরকম নিলজ্জতা ভাবে দেশ পরিচালনা করেছিল ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে, সেই সময়ের নবাব- ভূইয়া, জমিদার ও তালুকদার গংরা । কারণ ছিলো ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সেইসব নবাব ভূইয়া জমিদার ও তালুকদার গংদেরকে একটি মোটা অংকের বাজেটের শর্ত দিয়ে রাজ‍্য প্রধান করা হতো। তাই তারা সেদিন জমির খাজনা এবং পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়ে জনগণ শোষণ করেই, সেই অর্থ উপার্জন করে নিজেরাও চলতো আবার ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকেও দিতো। যার ফলে সেই সব প্রথা জনগণের আন্দোলনের মুখেই পতন হয়েছে। এখন আপনি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাতো জনগণের ভোটে। যাকে বলে জনগণের ভোটের সরকার। তাহলে জনগণ কি ভোট দিয়েছে। পণ্যের মূল্য বাড়াতে না কমাতে? আপনার সরকার যদি আগামী এক মাসের মধ‍্যে প্রতিটা ডিমের মূল্য মাত্র দুই টাকা কমাতে সক্ষম হয়। তাহলে পরের দিনই আপনার পক্ষে চলে আসবে দেশের আট কোটি নিম্ন আয়ের জনগণ। চীন এবং জাপান যদি এই দেশে পাহাড় সমান ডলার ও বিনিয়োগ করেন তারা । তাতেও সেই সাধারণ জনগণের কিছুই যায় আসে না। আপনার প্রশংসা করতেও তারা মনোযোগ দিবে না। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রধান, সরকারের এমপি -মন্ত্রী সরকার দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশে- বিদেশের সকল সম্মানিত পাঠক /পাঠিকাসহ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি লেখাটি পড়ার শেষে মন্তব্য করার জন্য।

অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থলেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *