অনন্তকালের পথ: নিজেকে জানা থেকে বিশ্বকে আপন করে নেওয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মানুষের জীবন নিয়ে যুগে যুগে অসংখ্য দর্শন ও মতবাদ তৈরি হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু সহজ সত্যই আমাদের জীবনের পথ দেখায়। আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসার দর্শনে উঠে এসেছে তেমনই একটি সহজ অথচ গভীর জীবনবোধ—সবার আগে আপনাকে বেঁচে থাকতে হবে। কথাটি শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও এর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে জীবনের মৌলিক ভিত্তি। কারণ আপনি যদি নিজেই টিকে থাকতে না পারেন, তাহলে আপনার চিন্তা, স্বপ্ন, ভালোবাসা কিংবা কোনো আদর্শেরই বাস্তব অর্থ থাকে না। বাংলায় একটি প্রবাদ রয়েছে—‘নিজে বাঁচলে বাপের নাম।’ এর অর্থ স্বার্থপরতা নয়; বরং এটি জীবনের বাস্তবতাকে উপলব্ধি করার শিক্ষা। বেঁচে থাকা মানে শুধু শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া নয়, নিজের অস্তিত্বকে সচেতনভাবে উপলব্ধি করা। নিজেকে জানা, বোঝা ও চিনে নেওয়া জীবনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো নিজেকে জানা, বোঝা এবং নিজের পরিচয় উপলব্ধি করা। মানুষের সবচেয়ে বড় অজানা জগৎটি অনেক সময় তার নিজের ভেতরেই থাকে। আমরা পৃথিবীকে বিচার করি, অন্য মানুষকে বুঝতে চাই, অথচ নিজের অন্তর্জগৎকে জানার চেষ্টা করি না। কিন্তু মানুষ যখন নিজেকে চিনতে শুরু করে, তখন তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। পৃথিবীকে তখন আর অতটা জটিল মনে হয় না; বরং জীবন হয়ে ওঠে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও অর্থবহ। নিজেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকে আপন করে নেওয়া নিজেকে জানার পর ধীরে ধীরে মানুষের চিন্তার পরিধি বিস্তৃত হতে থাকে। প্রথমে নিজের অস্তিত্ব, তারপর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, জেলা, বিভাগ, দেশ এবং সর্বশেষ সমগ্র পৃথিবী। এই বিস্তৃতির মধ্যেই নিহিত রয়েছে এক গভীর মানবিক দর্শন—আপনি যাকে আপন করে নেবেন, সে-ই আপনার আপন হয়ে উঠবে। এটি কোনো শারীরিক বিজয়ের দর্শন নয়। এখানে যুদ্ধ নেই, দখল নেই, আধিপত্য কিংবা প্রতিযোগিতা নেই। এটি হৃদয় ও মন দিয়ে মানুষকে গ্রহণ করার এক মানবিক দর্শন। আপনি কাউকে আপন ভাবলে আপনার হৃদয়ে তার জন্য জায়গা তৈরি হয়। আর এই গ্রহণ করার মানসিকতা থেকেই জন্ম নেয় ভালোবাসা, বিশ্বাস, সম্প্রীতি ও মানবিক সম্পর্ক। বিভাজন নয়, মানবিক ঐক্য আজকের পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, ভাষা, বর্ণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে মানুষে মানুষে বিভাজন ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। অথচ মানবিক দর্শন আমাদের শেখায় বিভেদ নয়, ঐক্য; ঘৃণা নয়, ভালোবাসা; বিচ্ছিন্নতা নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা। আপনি যদি পৃথিবীকে নিজের মনে করেন, তাহলে পৃথিবীর প্রতি আপনার দায়িত্ববোধও বদলে যাবে। আপনি ধ্বংসের পরিবর্তে গড়ার চিন্তা করবেন, ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা ছড়াবেন এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে কাজ করতে শিখবেন।
সহযাত্রাই জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য মানুষ একা বেঁচে থাকার জন্য সৃষ্টি হয়নি। মানুষ সামাজিক জীব। আমরা একে অন্যের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করি, দুঃখ-কষ্ট ভাগ করি, বিপদে পাশে দাঁড়াই এবং সুখে একসঙ্গে হাসি। এই পারস্পরিক অংশগ্রহণ ও ভাগাভাগির মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত। অন্যের সুখে অংশগ্রহণ করলে নিজের জীবনও সমৃদ্ধ হয়। অন্যের দুঃখ উপলব্ধি করতে পারলে মানবিকতা আরও গভীর হয়।
এভাবেই মানুষের জীবন হয়ে ওঠে একে অন্যের সঙ্গে পথচলার অবিরাম গল্প। অনন্তকালের ধারাবাহিকতা রাতের পর দিন, দিনের পর রাত; এক প্রজন্মের পর আরেক প্রজন্ম; একজন মানুষের পর আরেকজন মানুষ—এভাবেই চলতে থাকে জীবনের অবিরাম ধারাবাহিকতা এই চলমান ধারাই অনন্তকালের প্রতিচ্ছবি। অনন্তকাল শুধু কোনো রহস্যময় সময়ের নাম নয়; মানুষের চিন্তা, কর্ম, ভালোবাসা, আদর্শ ও মানবিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েও অনন্তকালের অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। আপনি যখন কাউকে আপন করে নেন, নিজের সংকীর্ণ সীমানা অতিক্রম করে অন্য মানুষকে গ্রহণ করেন এবং মানবকল্যাণে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন, তখনই আপনি বৃহত্তর মানবিক ধারার অংশ হয়ে ওঠেন। উপসংহার শেষ পর্যন্ত জীবনের শিক্ষা একটাই—প্রথমে নিজেকে বাঁচান, নিজেকে জানুন, নিজের অস্তিত্ব ও দায়িত্ব উপলব্ধি করুন। তারপর পরিবার, সমাজ, দেশ ও সমগ্র পৃথিবীকে আপন করে নিন।
কারণ আপনি যাকে আপন করবেন, তার জন্যই আপনার হৃদয়ে জায়গা তৈরি হবে। আর সেই ভালোবাসা ও মানবিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে একটি বিস্তৃত, সীমাহীন ও ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব। এভাবেই মানুষ বেঁচে থাকে। এভাবেই মানবিকতা বেঁচে থাকে। এভাবেই পৃথিবী এগিয়ে চলে। এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলতে থাকে অনন্তকাল।
দর্শনের মূল বক্তব্য: নিজেকে জানা থেকে মানবতাকে জানা, নিজের অস্তিত্ব রক্ষা থেকে বিশ্বমানবতার কল্যাণে এগিয়ে যাওয়াই অনন্তকালের পথ।
অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
এম এ রউফ (কাতার)
প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা ও সংগঠক
সদস্য সচিব, কেন্দ্রীয় কমিটি
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
যোগাযোগ: +৯৭৪ ৬৬৯৫৮০৩৫
ই-মেইল: roufnasrin@gmail.com