যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতির সম্ভাবনা
হাকিকুল ইসলাম খোকন,এমডি নাসির,বাপসনিউজঃ
নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও ট্রাম্প প্রশাসনের জনপ্রিয়তা নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা ।খবর আইবিএননিউজ ও বাপসনিউজ ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র: আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬,মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে। নিউজ নেশন-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল এখনো নিশ্চিত নয়। বর্তমানে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে চাইলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—প্রতিটি কক্ষে নিট চারটি করে আসন বাড়াতে হবে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণঃ এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্য ও জ্বালানির দাম, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি অভিবাসননীতি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কার্যক্রমও নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব ফেলছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ১৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারেন। অন্যদিকে ৪০ শতাংশ মনে করেন, রিপাবলিকানরা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবেন। সিনেটের ক্ষেত্রে জনমত তুলনামূলকভাবে বিভক্ত—৪৮ শতাংশ রিপাবলিকানদের এবং ৪৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সম্ভাবনা দেখেছেন। জরিপটি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,থেকে ৪ অক্টোবরের ২০২৬,মধ্যে ৫ হাজার ৬২ জন আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। নির্বাচনের ফল কী প্রভাব ফেলতে পারে? ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও বাজেটসংক্রান্ত পরিকল্পনার ওপর কংগ্রেসের তদারকি বাড়তে পারে। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা এবং সিনেটের আইন প্রণয়নসংক্রান্ত নিয়মের কারণে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ পেলেই সব নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ বজায় থাকবে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না; এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরের রাজনৈতিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ফলাফলের ওপর।