রবীন্দ্রনাথের প্রতি ভিন্নমত থাকলেও তাঁর সৃষ্টি ও ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান জরুরি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার আন্তর্জাতিকের পক্ষ থেকে কবি ও সাহিত্যিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কারও ভালো না-ও লাগতে পারে। এটি প্রত্যেক ব্যক্তির নিজস্ব পছন্দ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও অধিকার। তবে কোনো কবির প্রতি অপছন্দ বা ভিন্নমত থাকার কারণে তাঁর ছবি বিকৃত করা কিংবা তাঁর সৃষ্টিকে অপমান করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। এ ধরনের আচরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হীনমন্যতা, সংকীর্ণতা ও অসহিষ্ণু মানসিকতারই প্রকাশ ঘটতে পারে। একজন কবি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে যেমন সমাজকে দেখেন, তেমনি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও সমাজের বাস্তবতা উপলব্ধি করেন এবং তা সাহিত্যের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। কবি যেভাবে জীবন, সমাজ ও বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে প্রকাশ করেন, তার সঙ্গে অন্যের চিন্তাভাবনার ভিন্নতা থাকতেই পারে। আর এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই একজন কবিকে স্বতন্ত্র পরিচয় দেয়। পৃথিবীর সব সাহিত্যকর্ম বা সৃজনশীল সৃষ্টি সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব চিন্তা, মতামত ও মূল্যায়নের অধিকার রয়েছে। তবে সেই মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে সুস্থ, মার্জিত ও যুক্তিনির্ভর পন্থা অনুসরণ করা প্রয়োজন। কোনো কবি, সাহিত্যিক কিংবা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের চিন্তা ও আদর্শের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা যেতেই পারে। কিন্তু সেই ভিন্নমত প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁর ছবি বিকৃত করা বা সৃষ্টিকে অসম্মান করা কোনো যুক্তিসংগত প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। বরং এমন আচরণ সমাজে অসহিষ্ণুতা ও নেতিবাচক মানসিকতাকে উৎসাহিত করে। একজন সাধারণ মানুষের চিন্তার জগৎ যেখানে শেষ হয়, একজন কবির কল্পনার আকাশ অনেক সময় সেখান থেকেই শুরু হয়। কবিরা সমসাময়িক বাস্তবতার পাশাপাশি মানুষের অনুভূতি, সমাজের অন্তর্নিহিত সত্য এবং জীবনের বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরেন। তাঁদের চিন্তা ও সৃষ্টির সঙ্গে সবার মতের মিল না-ও হতে পারে। কিন্তু এই ভিন্নতাই সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে। ভিন্নমত থাকবে, তবে অসম্মান নয়—এটাই হোক সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার অঙ্গীকার। কোনো স্রষ্টা ও তাঁর সৃষ্টির প্রতি ন্যূনতম সম্মান বজায় রাখা একজন সচেতন, সহনশীল ও সংস্কৃতিমনা মানুষের পরিচয়।