সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালাগালি বন্ধের আহ্বান-এম এ রউফ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালাগালি বন্ধের আহ্বান-এম এ রউফ

Oct 13, 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আন্তর্জাতিকের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্যোক্তা ও সংগঠক এম এ রউফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালাগালি, অশালীন মন্তব্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণ বন্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে প্রায়ই কিছু মানুষকে অন্যের প্রতি অশালীন ভাষা প্রয়োগ, গালাগালি ও অপমানজনক মন্তব্য করতে দেখা যায়। এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মানসিকভাবে কষ্টদায়ক। এটি সুস্থ পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিপন্থী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশ ও যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু এই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে কাউকে অপমান করা কিংবা মানসিকভাবে আঘাত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মতের অমিল থাকলেও প্রত্যেকের উচিত শালীন ভাষায় নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করা এবং অন্যের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো। ফেসবুকে নেতিবাচক মন্তব্য এড়ানোর উপায় বিজ্ঞপ্তিতে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়। কমেন্ট ফিল্টারিং: ফেসবুকের সেটিংস ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু আপত্তিকর শব্দ ফিল্টার করা যায়। এতে কিছু নেতিবাচক মন্তব্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে লুকানো সম্ভব। প্রাইভেসি সেটিংস: নিজের পোস্টে কারা মন্তব্য করতে পারবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোফাইলের গোপনীয়তা সেটিংস পরিবর্তন করার মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের ঝুঁকি কমানো যায়। ব্লক ও আনফলো: যারা নিয়মিত গালাগালি বা অপমানজনক মন্তব্য করেন, তাঁদের ব্লক, আনফলো কিংবা প্রয়োজনে আনফ্রেন্ড করা যেতে পারে। রিপোর্ট করা: কোনো পোস্ট বা মন্তব্য আপত্তিকর, হয়রানিমূলক কিংবা ফেসবুকের নীতিমালাবিরোধী হলে সেটি রিপোর্ট করা যেতে পারে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। মানসিক শান্তি বজায় রাখার আহ্বান এম এ রউফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক পরিবেশ যেন বাস্তব জীবনে মানসিক অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে না পড়ে উসকানিমূলক মন্তব্য উপেক্ষা করা এবং প্রয়োজনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জীবনের একটি অংশ, পুরো জীবন নয়। তাই অনলাইনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে পরিবারকে সময় দেওয়া, বই পড়া এবং বাস্তব জীবনের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া উচিত। অন্যের নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে নিজের মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাস নষ্ট করা সমীচীন নয়। সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা কেউই এমন একটি সমাজ প্রত্যাশা করি না, যেখানে মানুষ পরস্পরকে অসম্মান করবে, গালাগালি করবে কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে হেয়প্রতিপন্ন করবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে অন্যের সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অধিকার নয়। একটি সুন্দর, সুস্থ ও মানবিক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। পরিশেষে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শালীন ভাষার ব্যবহার, দায়িত্বশীল আচরণ এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে অনলাইন পরিবেশকে সুন্দর ও ইতিবাচক করে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এম এ রউফ, প্রতিষ্ঠাতা, উদ্যোক্তা ও সংগঠক, রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আন্তর্জাতিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *