মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসার বার্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা, আত্মোপলব্ধি, অনুশোচনা এবং বাংলা ভাষার অমূল্য সম্পদের মাহাত্ম্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। ‘বঙ্গভাষা’ কবিতাটি কবির বিখ্যাত ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। কবিতাটিতে কবি নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন। জীবনের শুরুতে বিদেশি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি মাতৃভাষা বাংলাকে অবহেলা করেছিলেন। বিদেশি ভাষার মাধ্যমে যশ ও অর্থ লাভের আশায় তিনি পরবাসে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে কবির আত্মোপলব্ধি ঘটে। তিনি বুঝতে পারেন, নিজের ঘরেই যখন অমূল্য রত্নের ভাণ্ডার রয়েছে, তখন অন্যের দ্বারে গিয়ে সম্পদ খোঁজার কোনো প্রয়োজন নেই। কবিতায় ‘কুললক্ষ্মী’র স্বপ্নের মাধ্যমে এই উপলব্ধির বিষয়টি প্রতীকীভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। কুললক্ষ্মী যেন কবিকে স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলা ভাষার ভাণ্ডার মণি-মাণিক্যে পরিপূর্ণ। এই উপলব্ধির পর কবির ভুল ভেঙে যায়। তিনি মাতৃভাষার প্রকৃত মূল্য ও মর্যাদা উপলব্ধি করেন এবং বাংলা ভাষার সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। ফলে ‘বঙ্গভাষা’ কবিতাটি শুধু একটি কবিতা নয়, বরং মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রকাশ। এদিকে দেশপ্রেমিক ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত এম এ রউফ বলেন, “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”—এই চেতনার সঙ্গে মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ গভীরভাবে সম্পর্কিত। ইতিহাসও সাক্ষ্য দেয়, একটি জাতির ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তার আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।