রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ ইন্টারন্যাশনালের ৯ প্রধান স্তম্ভ ঘোষণা

রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ ইন্টারন্যাশনালের ৯ প্রধান স্তম্ভ ঘোষণা

Sep 30, 2026

এম এ রউফ, কাতার:

দেশপ্রেম, মানবকল্যাণ, মৌলিক অধিকার, সামাজিক ঐক্য ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে রেখে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ ইন্টারন্যাশনাল’-এর ৯টি প্রধান স্তম্ভ বা Core Pillars তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের প্রতি ভালোবাসা ও মানুষের কল্যাণকে কেন্দ্র করে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তাদের দর্শনে দেশকে মানুষের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। দেশ ভালো থাকলে মানুষ ভালো থাকবে—এই বিশ্বাস থেকেই সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হবে। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ ইন্টারন্যাশনালের প্রথম স্তম্ভ ‘দেশপ্রেম ও মানবকল্যাণ’। দ্বিতীয় স্তম্ভ ‘মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ’। সংগঠনটির মতে, প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার, সম্মানজনক জীবনযাপন এবং মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। তৃতীয় স্তম্ভ ‘বিভাজনমুক্ত সমাজ’। Divide and Rule বা বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে জাতি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটির মূল বক্তব্য—ঐক্যই শক্তি। চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে রয়েছে ‘তোআ-আতো (M.Y) নৈতিক দর্শন—Ethical Ownership Principle’। সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নীতির প্রবর্তক দার্শনিক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা। এর মূল বক্তব্য—“তোমারটা তোমার, আমারটা আমার” (Mine is Mine, Yours is Yours)। অন্যের অধিকার ও হক রক্ষা করা, অন্যের সম্পদ বা অধিকার থেকে বিরত থাকা এবং ন্যায় ও সততার ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তোলাই এ নীতির মূল শিক্ষা। পঞ্চম স্তম্ভ ‘নৈতিক ভারসাম্য—51% Good Principle’। সংগঠনটির দর্শনে ভালো ও মন্দের মধ্যে ভালো শক্তিকে ন্যূনতম ৫১ শতাংশ এগিয়ে রাখার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ স্তম্ভ ‘আত্মউন্নয়ন ও সচেতনতা’। এ ক্ষেত্রে সংগঠনের মূল বার্তা—“নিজে বাঁচো, দলকে বাঁচাও, দেশকে বাঁচাও।” নিজেকে জানা, নিজেকে গড়ে তোলা এবং ব্যক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজের অন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সপ্তম স্তম্ভ ‘প্রবাসী শক্তির মর্যাদা’। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ ইন্টারন্যাশনালের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাদের অধিকার সংরক্ষণ, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সংগঠনটির অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অষ্টম স্তম্ভ ‘কৃতজ্ঞতা ও আধ্যাত্মিকতা’। সৃষ্টি ও স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা বজায় রেখে নৈতিক ও সৎ জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মানুষের সেবাকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। নবম ও শেষ স্তম্ভ ‘ঐক্যের আহ্বান’। এ প্রসঙ্গে রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবারের পক্ষ থেকে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা, সংগঠক ও কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এম. এ. রউফ (কাতার) বলেন, “আমি দেশকে ভালোবাসি, আমি দেশপ্রেমিক। আপনি দেশকে ভালোবাসেন, আপনিও দেশপ্রেমিক।” তিনি ঐক্যের বার্তা হিসেবে স্লোগান তুলে ধরেন—“তুমি কে, আমি কে—দেশপ্রেমিক, দেশপ্রেমিক।” রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়, সততা, অধিকার, আত্মউন্নয়ন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদাকে সামনে রেখে সংগঠনটি তার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায়।

এম. এ. রউফ (কাতার), প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা, সংগঠক ও কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *