প্রেস বিজ্ঞপ্তি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Aug 12, 2026

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রবাসীদের ঐক্য, অধিকার ও মানবিক দায়বদ্ধতা একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। লোভ ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান করেন। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার — অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা, প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ এম এ রউফ সদস্য সচিব লন্ডন, ১১ আগস্ট ২০২৬: মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য সময় সন্ধ্যা ৬টায় আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে একটি ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মালেক ফারাজী। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব এম. এ. রউফ। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডঃ মালেক ফারাজী বলেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, প্রবাসীদের অবদান ও অধিকার, প্রবাসী কল্যাণ, রেমিট্যান্স ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয়, পেনশন, নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট আমাদেরও কষ্ট: সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দুঃখ, দুর্দশা ও অসহায়ত্ব দেখলে বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও কষ্ট পান। কারণ একজন প্রবাসী ভৌগোলিকভাবে দেশের বাইরে থাকলেও তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সম্পদ, স্মৃতি এবং হৃদয়ের একটি বড় অংশ বাংলাদেশেই থাকে। জালাল উদ্দীন ফ্রান্স ও মির্জা সূমন ফ্রান্স হাকিকূল ইসলাম খোকন আমেরিকা হাজী আনোয়ার হোসেন আমেরিকা বলেন, “আমরা বিদেশে থাকি, কিন্তু আমাদের মন বাংলাদেশে। বাংলাদেশের মানুষ কষ্ট পেলে আমরাও কষ্ট পাই। দেশের উন্নতি হলে আমরা আনন্দিত হই। তাই প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণকে আমরা একে অপরের থেকে আলাদা করে দেখি না।” এম এ রউফ আপনারা সহ যোদ্ধা ভাই ও রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন শাহিদা পারভীন রত্না ও নাসরিন আক্তার তরফদার রউফ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বলেন, প্রবাসীরা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে শুধু নিজেদের পরিবারের জন্য নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও অবদান রেখে চলেছেন। সেই কারণে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রবাসীদের জীবনেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিরো হিরোইন। পরিবার। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার বলেন। লোভ ও ব্যক্তিস্বার্থ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অ্যাডভোকেট ঈসা তার বক্তব্যে মানবজীবনে লোভ ও ব্যক্তিস্বার্থের প্রভাব নিয়েও কথা বলেন। রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার সংসদ বলেছেন। মানুষের স্বভাবের মধ্যে নিজের জন্য আরও বেশি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে। কিন্তু যখন সেই আকাঙ্ক্ষা সীমা অতিক্রম করে লোভ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, প্রতারণা ও অন্যের অধিকার হরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। ডক্টর শরিফ সাকি ও ইসমাইল খান, মোঃ আব্দুল ওয়াহাব রিংকো ও মেজর ইমরান মিয়া কর্নেল ফেরদৌস আজিজ বলেন, “লোভকে যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে ব্যক্তি যতই সম্পদশালী হোক, সমাজ কখনো ন্যায়ভিত্তিক হতে পারবে না। আমাদের ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।” দেশের সম্পদ, সরকারি সুযোগ-সুবিধা কিংবা রেমিট্যান্স যোদ্ধা কল্যাণের নামে গৃহীত কোনো উদ্যোগ যেন দুর্নীতি, সিন্ডিকেট বা ব্যক্তিস্বার্থের শিকার না হয়, সে ব্যাপারে শক্তিশালী জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার করুণা নয়, ন্যায্য অধিকার চান। সভায় বলা হয়, রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবারের জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার বলেন, “আমরা কারও করুণা চাই না। আমরা চাই আমাদের শ্রম ও অবদানের ন্যায্য স্বীকৃতি এবং অধিকার। আমাদের আন্দোলন দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশকে আরও শক্তিশালী করার জন্য।” রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার বলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধা দের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তাদেরও দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা, নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো সেই দায়িত্বের অংশ। ছয় দফা দাবির বাস্তবায়ন জরুরি সভায় আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের দীর্ঘদিনের ছয় দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. স্থায়ী পেনশন ব্যবস্থা: দীর্ঘদিন বিদেশে কাজ করে দেশে ফিরে আসা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য কার্যকর ও স্থায়ী পেনশন ব্যবস্থা চালু করা।
২. বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয় কমানো: দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কারণে অস্বাভাবিক অভিবাসন ব্যয় বন্ধ করে স্বচ্ছ, সাশ্রয়ী ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৩. আধুনিক শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ: আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভাষা, প্রযুক্তি এবং আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা।
৪. প্রবাসীদের পূর্ণ নিরাপত্তা: কর্মস্থল, বাসস্থান, আইনি সহায়তা, দেশে থাকা পরিবার ও সম্পদ এবং বিমানবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।
৫. প্রবাসী কল্যাণ তহবিল: দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, মৃত্যু, কর্মহীনতা এবং জরুরি মানবিক পরিস্থিতিতে প্রবাসী ও তাদের পরিবারকে সহায়তার জন্য শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কল্যাণ তহবিল নিশ্চিত করা।
৬. রাষ্ট্র পরিচালনায় মোট জনসংখ্যার অনুপাতিক হারে (1/12) কার্যকর প্রবাসী প্রতিনিধিত্ব: জাতীয় সংসদে ২৫ জন প্রবাসী এমপি এবং মন্ত্রিসভায় ৪ জন প্রবাসী প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করে প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর সরাসরি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা। কথার স্বীকৃতি নয়, বাস্তব পরিবর্তন দরকার সভায় বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের প্রশংসা করা অবশ্যই ইতিবাচক, কিন্তু প্রশংসার সঙ্গে বাস্তব নীতিগত পরিবর্তন থাকতে হবে। বিমানবন্দরে সম্মানজনক সেবা, দ্রুত পাসপোর্ট, কম খরচে বিদেশে কর্মসংস্থান, প্রতারণা ও সিন্ডিকেট প্রতিরোধ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দেশে ফিরে পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলো প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রবাসীদের জন্য নীতি তৈরির সময় তাদের প্রকৃত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ সমস্যার বাস্তব অভিজ্ঞতা যাদের রয়েছে, তাদের বক্তব্য নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত হলে সিদ্ধান্ত আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত হতে পারে। ঐক্যই প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় শক্তি সভা পরিচালনাকালে সদস্য সচিব এম. এ. রউফ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য আরও শক্তিশালী করতে হবে। দলীয়, আঞ্চলিক ও ব্যক্তিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে প্রবাসীদের সাধারণ স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করাই সংগঠনের লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমাদের দাবি নৈতিক, যৌক্তিক ও অধিকারভিত্তিক। শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক উপায়ে আমরা আমাদের দাবি তুলে ধরে যাব। আমাদের সংগ্রাম দেশের ক্ষতির জন্য নয়, দেশের এবং প্রবাসীদের কল্যাণের জন্য।” দেশের ক্ষতি করে কোনো আন্দোলন নয় সমাপনী বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, প্রবাসীদের আন্দোলনের মূল ভিত্তি হবে দেশপ্রেম, শান্তি, ঐক্য এবং যুক্তি। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি। নিজের অধিকার আদায় করতে গিয়ে আমরা এমন কোনো কাজ করতে পারি না, যাতে দেশের অর্থনীতি বা সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়। আমাদের সংগ্রাম হবে শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও গণতান্ত্রিক। আমরা দেশের বিরুদ্ধে নয়, দেশের সঙ্গে থেকে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই।” তিনি সরকার, রাজনৈতিক দল, সংসদ সদস্য, মানবাধিকার সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রবাসীদের সমস্যাকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে জাতীয় অর্থনীতি, মানবিক মর্যাদা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সবশেষে তিনি বলেন, “একজনের প্রচেষ্টা ছোট হতে পারে, কিন্তু লাখো মানুষের ন্যায্য প্রচেষ্টা একত্রিত হলে সেটিই একটি শক্তিতে পরিণত হয়। আসুন, লোভ ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ, মানুষ এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।” উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা ও দোয়া জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
প্রকাশক:
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
এম. এ. রউফ (কাতার)
সদস্য সচিব স্পিকার উদ্যোক্তা সংগঠক
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *