প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রণোদনা ৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবি আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকারি প্রণোদনা ৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ। একই সঙ্গে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, হুন্ডি সিন্ডিকেট ও অবৈধ অর্থপাচারকারী চক্রের স্বার্থে রেমিট্যান্স প্রণোদনা কমানোর ষড়যন্ত্র চলছে বলে তারা আশঙ্কা করছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের আরও বেশি উৎসাহিত করা প্রয়োজন, প্রণোদনা কমানো নয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে গিয়ে প্রবাসীরা অতিরিক্ত খরচ, সময়ক্ষেপণ, বিনিময় হারের পার্থক্য এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হন। অন্যদিকে হুন্ডি চক্র তুলনামূলক বেশি বিনিময় হার ও দ্রুত অর্থ পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করে। এ অবস্থায় প্রণোদনা কমানো হলে হুন্ডির ব্যবহার বাড়তে পারে বলে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করে। রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নাসরিন আক্তার তরফদার রউফ এবং চেয়ারম্যান লায়ন শাহিদা পারভীন রত্না বলেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো আরও আকর্ষণীয় করতে সরকারি প্রণোদনা ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেই প্রণোদনা প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব এম. এ. রউফ (কাতার) বলেন, ৫ শতাংশ প্রণোদনা কার্যকর হলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে আরও উৎসাহিত হবেন। এতে হুন্ডির ব্যবহার কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সরকারি প্রবাহ বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে। হাকিকুল ইসলাম খোকন, মির্জা সুমন ও রেয়াজ আবু সাঈদ বলেন, প্রবাসীরা দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে থেকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের এই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যৌথ বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা ও এম. এ. রউফ আরও বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়; যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, দেশের উন্নয়ন ও প্রবাসীদের স্বার্থে সহযোগিতা করাই তাদের লক্ষ্য। তারা বলেন, প্রবাসীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা না করে সরকারকে তথ্যভিত্তিক ও প্রবাসীবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সংগঠনটি সরকারের প্রতি রেমিট্যান্স প্রণোদনা ৫ শতাংশে উন্নীত করা, হুন্ডি ও অর্থপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা, প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার নিশ্চিত করা, রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানো, দ্রুত ডিজিটাল রেমিট্যান্স ব্যবস্থা চালু করা, প্রণোদনা প্রদানে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু এবং বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোতে রেমিট্যান্স সহায়তা ডেস্ক স্থাপনের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া, হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে দল-মত নির্বিশেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। প্রবাসীদের উদ্দেশে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বৈধ ব্যাংক, অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ হাউস ও বৈধ ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাময়িক বেশি বিনিময় হারের প্রলোভনে হুন্ডি ব্যবহার করলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অবৈধ অর্থপাচারকারী চক্র শক্তিশালী হয়।
বিবৃতিদাতা: অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ এবং এম. এ. রউফ (কাতার), সদস্য সচিব, আন্তর্জাতিক কেন্দ্রীয় কমিটি।