ঢাকা ডিসি অফিসের পিয়ন ফিরোজ ও দুই ভাইয়ের চাঁদাবাজি-জমি দখলে বিভিন্ন দপ্তরে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

ঢাকা ডিসি অফিসের পিয়ন ফিরোজ ও দুই ভাইয়ের চাঁদাবাজি-জমি দখলে বিভিন্ন দপ্তরে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

Jun 14, 2026

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা ডিসি অফিসের অফিস সহায়ক (পিয়ন) মো. ফিরোজ, তার ভাই আল আমিন ও আশরাফুল ইসলাম বাবরের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল ও হুমকির অভিযোগে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন দুই ব্যক্তি। গত ৩ জুন এই অভিযোগ করেন চরফ্যাশনের আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের আবুল কালাম মোল্লা ও হাজি নুর মোহাম্মদ মোল্লা। সংসদ সদস্য এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

অপরদিকে, অভিযুক্তদের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ওই দুই ব্যক্তি জনপ্রশাসন সচিব, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে আজ সোমবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করাকালীন চরফ্যাশনের আব্দুল্লাহপুর ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, ঢাকা ডিসি অফিসের অফিস সহায়ক (পিয়ন) মো. ফিরোজ, তার ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন ও আশরাফুল ইসলাম বাবর তার আত্মীয় কালাম মোল্লার জমি জালজালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র সৃজন করছেন।

আবুল কালাম মোল্লা তার জমি চাষাবাদ করতে গেলে তাকে ফিরোজ, আলামিন ও বাবর বাধা দেন। এ সময় তাকে গালিগালাজ ও মামলা দিয়ে শায়েস্তা করার হুমকি দেন। আবুল কালাম মোল্লা প্রতিবাদ করতে গেলে ফিরোজ ঢাকা জেলা প্রশাসককে দিয়ে ক্ষতি করার হুমকি দেন। এবং ফিরোজ নিজকে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলে পরিচয় দেন।

অপরদিকে, পিয়ন মো. ফিরোজের বিরুদ্ধে স্থানীয় এমপির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আব্দুল্লাহপুর ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাজি নুর মোহাম্মদ মোল্লা। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মো. ফিরোজ তার ভাই আল আমিন ও আশরাফুল ইসলাম বাবর মামলার ভয় ভীতি দেখিয়ে এবং নিজদেরকে ঢাকার জেলা প্রশাসকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি দাবি করে এলাকার লোকজনের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ফিরোজ, আলআমিন ও বাবর স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসার জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজন করে দখল করার পাঁয়তারা করছেন। হাজি নুর মোহাম্মদ মোল্লার ২৪ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন এবং তার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। স্থানীয় লোকজন তাদের আতঙ্কে মুখ খুলছেন না।

উল্লেখ্য, মো. ফিরোজ ভোলার চরফ্যাশনের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি নিলে একজন আইনজীবীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বর্তমানে ফিরোজের জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগের তদন্ত করছেন ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিয়া সুলতানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *