সাজাপ্রাপ্তের বাবার বিরুদ্ধে দোকানের মালামাল বিক্রির অভিযোগ
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের গৌরীপুরের রামগোপালপুর ইউনিয়নের তেরশিরা গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র মো. আবুল কালাম কে চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ লাক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন বিচারিক আদালত। এদিকে মো. আবুল কালামের বাবার বিরুদ্ধে দোকানের মালামাল বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি করেন মামলার বাদী বিশ্বনাথপুর গ্রামের মো: আব্দুল হাইয়ের পুত্র দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, আবুল কালামের সাথে আমি পার্টনার শিপের ব্যবসা করে আসছিলাম। কিন্তু তিন বছর পর থেকেই তার সাথে বিভিন্ন বিবাদ শুরু হয়। তারপরে সামাজিক দরবারের মাধ্যমে আমাকে ২০ লক্ষ টাকার চেক বুঝিয়ে দেয়। পরে আমি ব্যাংকে গিয়ে দেখি একাউন্টে টাকা নাই। তখন আমি আদালতের দারাস্ত হই আদালত তাকে এক বছরের সাজা দিয়েছে। এবং ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে কিন্তু এখন আবুল কালামের বাবা আব্দুস সালাম আমাকে না জানিয়ে দোকানের সমস্ত মালামাল বিক্রি করে দিচ্ছে। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে আবুল কালামের বাবা মো. আব্দুস সালাম দাবি করেছেন, আমার ছেলে আমার কথা শোনে না। ছেলের বিরুদ্ধে আমিও মামলা করেছিলাম। দোকানের চাবিই তো আমার কাছে নেই। তাহলে আমি দোকানের মালামাল বিক্রি করব কীভাবে। এ বিষয়ে রামগোপালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সিকদার জানান, তাদের মধ্যে লেনদেন আছে। আমরা মিমাংসা করার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু পারি নি আবুল কালামের বাবার মালামাল বিক্রির বিষয়টি সঠিক বলে তিনি জানান। দোকানের ম্যানাজার শফিকুল ইসলাম জানান,।আমি কালামের কাছে ৩ লক্ষ টাকা পাই সে বিল্ডিং করে দেওয়ার জন্য নিয়েছিল কিন্তু দেয়নি। ঘটনাস্থলে দোকানের তালা না খুলতে পারায় দোকানের ভিতরের অবস্থা জানা যায়নি। উল্লেখ্য পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, প্রদর্শনী-২ সিরিজ হিসেবে চিহ্নিত মূল চেক (CAI 9402613) নং চেক, বেসিক ব্যাংক লিঃ, ঈশ্বরগঞ্জ শাখা। আসামী স্বাক্ষর করে নালিশকারাকে প্রদান করেন ০৮/০২/২০২৪. ইং তারিখে। প্রদর্শনী-৩ হিসেবে চিহি-৩ ডিজঅনার ছিল দুয়ে দেখা যায় ০৮/০২/২০২৪ ইং তারিখে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারনে নালিশি চেকগুলো ডিজঅনার হয় এবং চেক প্রদানের তারিখ থেকে ০৬ (ছয়) মাসের মধ্যেই নালিশপুরা ৩৭০ দিন চেকগুলো নগদায়নের জন্য ব্যাংকে উত্থাপিত হয়েছিলো। প্রদর্শন: ৩০১) হিসেবে চিি লিগ্যাল নোটিশ ও প্রদর্শনী-৪ হিসেবে চিহ্নিত রেজিস্টার্ড ডাক রসিদ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে নালিশকারী চেকটি ডিজঅনার হওয়ায় ৩০ (ত্রিশ) দিন সময়ের মধ্যেই আসামীকে টাক পরিশোধের জন্য লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছিলেন। তথাপিও আসামী চেকগুলোতে উল্লেখিত পরিমাণের টাকা নালিশকারীকে পরিশোধ করেন নাই। প্রদর্শনী- ১ সিরিজ হিসেবে চিহ্নিত নালিশি দরখাস্ত ও নালিশি দরখাস্তে প্রদা নালিশকারীর স্বাক্ষর বিশ্লেষণে দেখা যায় যে লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্তির পরও আসামী চেকের অর্থ পরিশোধ না করায় নালিশকারী cause of action উদ্ভবের পর যথা সময়ে (ত্রিশ দিনের মধ্যে) অত্র মামলাটি দায়ের করেছিলেন। উপরোক্ত সমস্ত দালিলিক সাক্ষ্যের সাথে PWI এর প্রদত্ত মৌখিক সাক্ষ্য সামঞ্জস্যপূর্ণণ ও সমর্থনমূলক মর্মে প্রতীয়মান হয় যা আসামী পলাতক থাকায় আসামীপক্ষ কর্তৃক খন্ডন করা কিংবা বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় নাই। তদুপরি রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় The Negotiable Instrument Act. 1881 এর ১৩৮ ধারার অপরাধ প্রমাণে উক্ত আইনের ১৩৮ ধারার সমস্ত আইনগত বাধ্যবাধ্যকতা পূরণ করেছেন। এমতাবস্থায়, সার্বিক আলোচনা, পর্যালোচনা ও বিচার বিশ্লেষণে প্রভায়মান ০. আসামী নালিশকারী বরাবর চেক প্রদান করতঃ উক্ত চেকগুলো ডিজঅনার হওয়া স্বত্ত্বেও উক্ত চেকের অর্থ নালিশকারীকে পরিশোধ না করায় The Negotiable Instrument Act. 1৪৪) এর ১৩৮ ধারার অধীন অপরাধ সংঘটন।