টঙ্গীতে ‘মিঃ ফুড প্রোডাক্টস’-এ তারিখ জালিয়াতির অভিযোগ, মেয়াদবিহীন পণ্য বিক্রির প্রমাণ মিলেছে

টঙ্গীতে ‘মিঃ ফুড প্রোডাক্টস’-এ তারিখ জালিয়াতির অভিযোগ, মেয়াদবিহীন পণ্য বিক্রির প্রমাণ মিলেছে

সাইফুল আলম|গাজীপুর

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার দত্তপাড়া হাজি মার্কেট সংলগ্ন Mr. Food Products নামের একটি বেকারির বিরুদ্ধে উৎপাদন তারিখ জালিয়াতি এবং উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ ছাড়া খাদ্যপণ্য বাজারজাত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে; জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক ভোক্তা ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যার পর উক্ত বেকারি থেকে ৩০ টাকা মূল্যের একটি পাউরুটি ক্রয় করেন। প্যাকেটের গায়ে উল্লেখিত তথ্য যাচাই করতে গিয়ে তিনি দেখেন, সেখানে ১৯ এপ্রিল উৎপাদন তারিখ লেখা। অর্থাৎ, কেনার একদিন পরের তারিখ ‘উৎপাদন’ হিসেবে উল্লেখ থাকায় তারিখ জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসে।

বিষয়টি নিয়ে ভোক্তা ক্যাশে দায়িত্বরত ব্যক্তির কাছে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে র‍্যাকে রাখা বিভিন্ন পণ্য পর্যবেক্ষণ করেন। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিক্রয়ের জন্য রাখা বিভিন্ন পাউরুটি, বিস্কুট, কেক ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের অনেকগুলোর প্যাকেটে উৎপাদন তারিখ (Manufacturing Date) এবং মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ (Expiry Date) উল্লেখ নেই—যা খাদ্যপণ্য বাজারজাতের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খাদ্যপণ্যে সঠিক উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ উল্লেখ না থাকলে ভোক্তারা পণ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন না। এতে নষ্ট বা নিম্নমানের খাদ্য গ্রহণের ঝুঁকি বাড়ে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে টঙ্গী এলাকায় ছোট-বড় বহু বেকারি গড়ে উঠলেও অনেকেই প্রয়োজনীয় নিয়ম না মেনে খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। নজরদারির ঘাটতির কারণে এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ছে না বলেও তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে বেকারির মালিক আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ভুলে হতে পারে।” অন্য পণ্যে উৎপাদন তারিখ ছাড়া বাজারজাত করা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *