দুই মাসে রাজশাহীতে ২০ নারী-শিশু বিভিন্ন নি’র্যাতনের শিকার: লফস
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীতে গত দুই মাসে (আগস্ট ও সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন ঘটনায় ২০ নারী ও শিশু হত্যা, আত্মহত্যা, নির্যাতন, নিখোঁজ, অপহরণ ও যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন ঘটনার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস)। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। রাজশাহীর বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে লফসের ডকুমেন্টেশন সেল নিয়মিত নারী ও শিশু নির্যাতনের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে থাকে। লফসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহী অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। যৌতুক, পরকীয়া, পারিবারিক কলহ ও প্রেমঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। দুই মাসের তথ্য অনুযায়ী, নারী ও শিশু মিলিয়ে হত্যা হয়েছে ২টি, আত্মহত্যা ৫টি, আত্মহত্যার চেষ্টা ১টি, ধর্ষণ ১টি, নির্যাতন ৩টি, নিখোঁজ ৪টি, অপহরণ ১টি, যৌন হয়রানি ২টি এবং বলাৎকারের ঘটনা ১টি। এর মধ্যে শিশু ৬ জন এবং নারী ১৪ জন। প্রতিবেদনে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাঘার মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, এসএসসি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে এক ছাত্রীর আত্মহত্যা, কাটাখালী এলাকায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, নগরীর গোরহাঙ্গা এলাকায় এক শিশুর নিখোঁজ হওয়া এবং পবা থেকে এক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া পুঠিয়ায় এক কিশোরের আত্মহত্যা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগ, মতিহারে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, মোহনপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক নারীর হাতের কব্জি কেটে দেওয়ার অভিযোগ, বাঘায় আর্থিক সংকটে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা এবং তানোরে সম্পত্তির বিরোধে এক গৃহবধূ নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নগরীর মতিহার এলাকায় এক গৃহবধূর আত্মহত্যা, তানোর ও বাঘায় দুই গৃহবধূর আত্মহত্যা, মোহনপুরে এক বৃদ্ধাকে তার ছেলের হত্যার অভিযোগ, পবায় শাশুড়িকে জামাতার ধর্ষণের অভিযোগ, মোহনপুরে এক বৃদ্ধা নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং বাগমারায় দুই নারী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া বাঘায় এক গৃহবধূকে তার স্বামীর কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। লফসের নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও নারী ও শিশু নির্যাতনের অনেক ঘটনা ঘটে, যেগুলো প্রকাশ্যে আসে না। ফলে প্রকাশিত তথ্যের চেয়েও প্রকৃত ঘটনা বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকাশিত তথ্য হতাশাজনক। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে তারা আরও উৎসাহিত হতে পারে এবং অপরাধের মাত্রা বাড়তে পারে। লফসের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতনের সব ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।