প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মিরপুর মডেল থানার এএসআই পলাশ

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মিরপুর মডেল থানার এএসআই পলাশ

Aug 14, 2026

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ফ্ল্যাটের মালিকানা ও অংশীদারিত্বসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যা মামলায় ফাঁসানো এবং তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এএসআই পলাশ চন্দ্রের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। এএসআই পলাশ চন্দ্র প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, একপাক্ষিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বলেন, প্রতিবেদনে তার বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। একই সঙ্গে মামলার তদন্তের প্রকৃত প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তও পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে মো. মতিউর রহমানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই পলাশ চন্দ্র এজাহারভুক্ত আসামিদের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করেননি। এ অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই পলাশ চন্দ্র বলেন, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি মামলার নথিপত্র, কাগজপত্র, তথ্য-উপাত্ত এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্রের ভিত্তিতেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কোনো আসামিকে সুবিধা দেওয়া, কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে তদন্ত পরিচালনার অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এএসআই পলাশ চন্দ্র বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে আমার দায়িত্ব হলো অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ প্রতিবেদন দাখিল করা। কোনো পক্ষের বক্তব্যকে অন্ধভাবে গ্রহণ না করে নথিপত্র, তথ্য-উপাত্ত ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করেই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।” প্রতিবাদে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট ও ভবনের মালিকানা, অংশীদারিত্ব এবং ওয়ারিশসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও প্রকাশিত প্রতিবেদনে একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এএসআই পলাশ চন্দ্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ফলে কোনো একটি পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুরো ঘটনা তুলে ধরলে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। প্রকাশিত সংবাদে ‘ভুয়া জিডি’ ও ‘চাপ প্রয়োগ’-এর মতো যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলেও দাবি করেন এএসআই পলাশ চন্দ্র। তার বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পর্যাপ্তভাবে প্রকাশ না করায় সংবাদটি একপাক্ষিক হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এএসআই পলাশ চন্দ্র আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং তার সুনাম ও মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমানসহ মিরপুর জোনের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন। তাদের জানামতে, তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই পলাশ চন্দ্র আইনবহির্ভূত কোনো কাজ করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য, রেকর্ড বা নিশ্চিতকরণ থাকা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এএসআই পলাশ চন্দ্র প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো পুনরায় যাচাই করে তার বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সঠিক তথ্য প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, নথিপত্র ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং ঘটনার উভয় দিক পর্যালোচনা করে বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *