নরসিংদী শিবপুরে ইসলামী ব্যাংকের তথ্য গোপন করে নতুন এজেন্ট শাখা নিয়ে বিতর্ক, নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ

নরসিংদী শিবপুরে ইসলামী ব্যাংকের তথ্য গোপন করে নতুন এজেন্ট শাখা নিয়ে বিতর্ক, নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ

Aug 3, 2026

 

নরসিংদী থেকে:

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নতুন একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের অনুমোদনকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আগে থেকে পরিচালিত এজেন্ট ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ নিয়ম লঙ্ঘন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ তুললেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুসরণ করেই নতুন আউটলেটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুলালপুর মোড়ে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, ২০২০ সালের জুলাই মাসে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হয়। দীর্ঘদিন লোকসানের পর ২০২৫ সালের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটি লাভের মুখ দেখতে শুরু করে। এমন সময় একই এলাকার গরবাড়ি বাজারে আরেকটি ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে একই ব্যাংকের আরেকটি এজেন্ট আউটলেট স্থাপনের সুযোগ নেই। কিন্তু তথ্য গোপন করে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, নতুন আউটলেটের উদ্যোক্তা আরিফুল রহমান এর ভাই শিবপুর উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমির মো:কাউছার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রভাব খাটিয়ে তথ্য গোপন করে অনুমোদন আদায় করেছেন। দুলালপুর মোড়ের বিদ্যমান এজেন্ট ব্যাংকের মালিক মোর্শেদ আলম জানান, বিষয়টি জানতে পেরে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিবপুর ইসলামী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক কিবরিয়া বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এক কিলোমিটারের মধ্যে একই ব্যাংকের নতুন এজেন্ট আউটলেট অনুমোদন দেওয়া যায় না। নিয়ম-নীতি পর্যালোচনা করেই নতুন এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।” এদিকে ইসলামী ব্যাংক পলাশ শাখার সহ-সভাপতি অহিদুল ইসলামও বলেন, “নিয়ম মেনেই নতুন এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে দুলালপুর মোড়ের বিদ্যমান এজেন্ট ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জ দাবি করেন, নতুন আউটলেটটি তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিদ্যমান এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম দুর্বল করার উদ্দেশ্যে কাছাকাছি স্থাপন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় গ্রাহক ও এলাকাবাসীর দাবি, নতুন এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *