কেমন হতে পারে বিএনপির মন্ত্রিসভা, আলোচনায় যারা

কেমন হতে পারে বিএনপির মন্ত্রিসভা, আলোচনায় যারা

অফিস ডেস্ক :
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নেতৃত্বে ইতোমধ্যে দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা বেড়েছে। তিনি দলের সিনিয়র ও ঘনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করছেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, এবারের মন্ত্রিসভায় সিনিয়র নেতাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নবীন ও তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের ইঙ্গিত মিলছে।
এর আগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত ২৯৭ জন সদস্যের শপথ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওই দিন সকালে শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।
সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়েই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পর তার নেতৃত্বেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা কত হবে, তা নির্ধারণ করবে বিজয়ী দল।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রশাসনে গতি আনা, নীতিনির্ধারণে নতুন ভাবনা যুক্ত করা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করতেই তরুণদের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে দলটির ভেতরে আলোচনা চলছে এবং বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করছেন তারেক রহমান। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির মন্ত্রিসভা কেমন হবে—তা জানতে দেশবাসীকে আর অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে।
আলোচনায় যারা
বিএনপির ২০০১–২০০৬ সরকারের সময়ের কয়েকজন মন্ত্রীকে এবারের মন্ত্রিসভায়ও রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, আগের সরকারের সময় যেসব মন্ত্রণালয় তুলনামূলকভাবে বিতর্কমুক্ত ছিল, সেসব দায়িত্বে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
আলোচনায় রয়েছেন—
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — রাষ্ট্রপতি বা উপ-রাষ্ট্রপতি পদে
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস
সালাহউদ্দিন আহমদ — সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী — পররাষ্ট্র বা বাণিজ্য
ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন — স্বাস্থ্য
আব্দুল আউয়াল মিন্টু
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
আ ন ম এহসানুল হক মিলন — শিক্ষা
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান — মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক
নজরুল ইসলাম খান — প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা
টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় আছেন মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মাহদী আমিন ও ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
মন্ত্রিসভায় থাকছেন নবীনরা
নতুন মন্ত্রিসভায় একাধিক নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনায় রয়েছেন—
রুহুল কবির রিজভী — তথ্য ও সম্প্রচার (টেকনোক্র্যাট)
ইসমাইল জবিউল্লাহ — জনপ্রশাসন (টেকনোক্র্যাট)
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি — স্বরাষ্ট্র
আসাদুজ্জামান — আইন
আমিনুল হক — যুব ও ক্রীড়া
হুমায়ুন কবির — পররাষ্ট্র (টেকনোক্র্যাট)
এছাড়াও শ্যামা ওবায়েদ, আরিফুর রহমান চৌধুরী, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, তানভীর আহমেদ রবীন, শহীদুল ইসলাম বাবুল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, সাঈদ আল নোমান—এই নামগুলোও শোনা যাচ্ছে।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। আলোচনায় রয়েছেন—
ড. রেজা কিবরিয়া — অর্থ
জোনায়েদ সাকি — প্রতিমন্ত্রী
ববি হাজ্জাজ
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ
নুরুল হক নুরু
মোস্তফা জামাল হায়দার
মাহমুদুর রহমান মান্না
সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞতা, তারুণ্য ও জোটগত অংশগ্রহণ—এই তিনের সমন্বয়েই বিএনপির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার কাঠামো দাঁড়াতে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *