প্রেস বিজ্ঞপ্তি-বিমানবন্দরের ট্রলি সংকট মোকাবিলায় ১,০০০ ট্রলি প্রদান করবে এয়ারপোর্ট ট্রলি ক্যাম্পেইন (ATC) UK, প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট এ এন এম ইসা
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বিমানবন্দরের ট্রলি সংকট মোকাবিলায় ১,০০০ ট্রলি প্রদান করবে এয়ারপোর্ট ট্রলি ক্যাম্পেইন (ATC) UK, প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট এ এন এম ইসা
লন্ডন / ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ পরিবহনে ট্রলি সংকট নিরসনে ১,০০০টি লাগেজ ট্রলি প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে এয়ারপোর্ট ট্রলি ক্যাম্পেইন (ATC) UK। সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট এ এন এম ইসা বলেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, কারিগরি স্পেসিফিকেশন ও আনুষ্ঠানিক গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রবাসীদের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। গত রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, এয়ারপোর্ট ট্রলি ক্যাম্পেইনের উদ্যোগে এক ভার্চুয়াল সভায় ট্রলি সংকট, যাত্রীসেবার মান, বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা এবং প্রবাসীদের স্বেচ্ছাসেবামূলক অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট এ এন এম ইসা। সভায় বক্তব্য রাখেন এয়ারপোর্ট ট্রলি ক্যাম্পেইন (ATC) UK আহ্বায়ক এ কে এম আবু তাহের চৌধুরী, ফ্রান্স কমিটির আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন খান, ফ্রান্স থেকে মুজিবুর রহমান, বার্মিংহাম কমিটির আহ্বায়ক ড. জয়নাল আবেদীন, নিউক্যাসল কমিটির আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া, লন্ডন কমিটির আহ্বায়ক ময়েজ আহমেদ এবং বাংলাদেশ থেকে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ এন এম ইসা বলেন, “দোষারোপ নয়, সমাধানের অংশ হতে চাই” বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকলে একই সময়ে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের শত শত যাত্রীকে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, ঢাকায় বর্তমানে ১০০ ট্রলির সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। আমরা শুধু একে অন্যকে দোষ দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারব না। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তাকে সমাধানের অংশ হতে হবে।” এই চিন্তা থেকেই আমরা প্রবাসীরা ১,০০০টি ট্রলি প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ যে স্পেসিফিকেশন, নিরাপত্তা মান ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে, সেই নিয়ম মেনেই আমরা এগোতে চাই।”
অ্যাডভোকেট ইসা জানান, উদ্যোগটির বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যানের কাছেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও দিকনির্দেশনা চেয়ে পত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট ট্রলি ক্যাম্পেইন UK-এর আহ্বায়ক এ কে এম আবু তাহের চৌধুরী বলেন, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি পাওয়ার জন্য যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা বা পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়া দেশের ভাবমূর্তির জন্য ইতিবাচক নয়। ট্রলি নিয়ে যাত্রীদের প্রতিযোগিতা কাম্য নয়। তিনি বলেন, একজন যাত্রী দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে যখন দেশে পৌঁছান, তখন তাঁর সঙ্গে শিশু, বয়স্ক স্বজন কিংবা একাধিক লাগেজ থাকতে পারে। সেই মুহূর্তে সহজে একটি ট্রলি পাওয়া বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক যাত্রীসেবার অংশ। তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত ট্রলি থাকলে যাত্রীদের অপেক্ষা কমবে, টার্মিনালে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমবে, লাগেজ পরিবহন সহজ হবে এবং বিমানবন্দরের সার্বিক শৃঙ্খলাও উন্নত হবে। অ্যাডভোকেট এ এন এম ইসা এই বাস্তব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।” বার্মিংহাম কমিটির আহ্বায়ক ড. জয়নাল আবেদীন বলেন, দেশের প্রয়োজনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণের ঐতিহ্য রয়েছে. ড. জয়নাল আবেদীন বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সংকট ও উন্নয়নমূলক কাজে প্রবাসীরা অতীতেও সহযোগিতা করেছেন। বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার সমস্যা প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, কারণ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এসব বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “কোনো যাত্রীকে যদি ট্রলির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে সেটি শুধু একটি ট্রলির সমস্যা থাকে না; সেটি যাত্রীসেবা ও ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করে বাস্তবসম্মত সমাধান চাই।” নিউক্যাসল কমিটির আহ্বায়ক, গোলাম কিবরিয়া বলেন, ট্রলি সমস্যার সমাধান একটি সূচনা হতে পারে। ট্রলি দিয়ে শুরু, যাত্রীসেবার অন্য সমস্যাও আলোচনায় আসবে. বিমানবন্দরে প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের অন্যান্য অভিযোগ ও অসুবিধাও পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি লাগেজ নিরাপত্তা, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ এবং সেবার জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ফ্রান্স কমিটির আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন খান বলেন, সমস্যা থাকলে সমাধানের পথও খুঁজতে হবে, সমস্যাকে শুধু চিহ্নিত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য সংগঠিত উদ্যোগও দরকার। তিনি বলেন, প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন। তাই দেশের বিমানবন্দরসহ প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত সেবাগুলোর উন্নয়নে প্রবাসীরা সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে পারেন। ফ্রান্স প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান বলেন, ট্রলি সংকট শুধু ট্রলির সংখ্যার বিষয় নয়; এটি সম্পদের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন, যথাযথ বণ্টন, রক্ষণাবেক্ষণ, সংগ্রহ এবং দ্রুত পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমরা উদ্যোগ নিয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব রাখছি। কর্তৃপক্ষ আমাদের ট্রলি গ্রহণ করতে পারে, অথবা নিজেরাই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সমস্যাটির কার্যকর সমাধান।” এই বক্তব্যের সূত্র ধরে সভায় ট্রলিগুলো ব্যবহারের পর দ্রুত নির্ধারিত স্থানে ফিরিয়ে আনা, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলি দ্রুত মেরামত, টার্মিনালভিত্তিক চাহিদা পর্যবেক্ষণ এবং ব্যস্ত সময়ে পর্যাপ্ত ট্রলি নিশ্চিত করার মতো ব্যবস্থাপনাগত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক খান: প্রবাসীদের অবদান উন্নয়নে ও কাজে লাগতে পারে. বাংলাদেশ থেকে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা আন্তর্জাতিক জনমত ও বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং স্বাধীনতার পরও দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের জনকল্যাণমূলক কাজে প্রবাসীদের সংগঠিত অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য জনকল্যাণমূলক উদ্যোগেও তারা ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন। সভা পরিচালনাকালে কবির আহমেদ মাসুম বলেন, বাংলাদেশের দুঃসময়ে কখনো প্রবাসীরা পিছপা হয়নি. কিন্তু সবসময়ই প্রবাসীরা বীমাতা সুলভ ব্যবহার পেয়েছে. আমরা প্রবাসীদের কারো করুনা চাই না, আমরা নিজেরাই আমাদের ট্রলি ব্যবস্থা করতে পারব ইনশাল্লাহ। যারা অনুপস্থিতর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, তারা হচ্ছেন, মনসুর আহমেদ মকিজ (কার্ডিফ), হাজী আনোয়ার হোসেন (আমেরিকা), মোহাম্মদ কাউসার হোসেন (অস্ট্রিয়া). মোহাম্মদ রহমত আলী (লন্ডন), এম এ রউফ (কাতার) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব, আন্তর্জাতিক রেমিটেন্স যুদ্ধ সংসদ. হাকিকুল ইসলাম (নিউইয়র্ক) আমেরিকা. মোঃ মুসাদ্দেক মিয়া মানিক, ওয়াসোল বার্মিংহাম যুক্তরাজ্য।
গৃহীত প্রস্তাবগুলো:
১. প্রধানমন্ত্রী বরাবরে হাইকমিশনের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রেরণ। ২. সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সাথে যোগাযোগ।
৩. বাংলাদেশী জনগণ এবং সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করে এয়ারপোর্টের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা এবং মাত্র একশো ট্রলি আছে যাহা উপস্থাপনা করে ট্রলি সমস্যা সমাধানে উদ্বুদ্ধ করা।
৪. যুক্তরাজ্যের সকল শহর বিভিন্ন দেশে
কমিটি করা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রেরক
কবির আহমেদ মাসুম
সাধারণ সম্পাদক
দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ, নিউক্যাসেল ইউকে