বিরামপুর চাঁদপুর ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা-এ দুই দশক ধরে ‘বিধি বহির্ভূত’ নিয়োগে বেতন আত্মসাৎ অভিযোগ, তদন্তের দাবি জোরালো

বিরামপুর চাঁদপুর ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা-এ দুই দশক ধরে ‘বিধি বহির্ভূত’ নিয়োগে বেতন আত্মসাৎ অভিযোগ, তদন্তের দাবি জোরালো

অফিস ডেস্ক :
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বিরামপুর চাঁদপুর ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা–এ দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসাটির সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) পদে কর্মরত মোঃ ছাইদুল ইসলাম ২০০০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেন। কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তে উক্ত পদে প্রার্থীর স্নাতক (ফাজিল সমমান) ডিগ্রি, বিপিএড প্রশিক্ষণ এবং সকল পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। অনুসন্ধানে অভিযোগ ওঠে, তিনি এসব যোগ্যতা অর্জনের আগেই নিয়োগ পান। তিনি ফাজিল পাস করেন ২০০০ সালে, স্নাতক সম্পন্ন করেন ২০০৩ সালে এবং বিপিএড প্রশিক্ষণ নেন ২০০৬ সালে—অর্থাৎ প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পূর্বেই নিয়োগ দেওয়া হয়, যা সরকারি বিধিমালার লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা কঠোর। যোগ্যতা ছাড়া নিয়োগ পাওয়া অবৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। অভিযোগে বলা হয়েছে—
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অমান্য করা হয়েছে
যোগ্যতা অর্জনের আগেই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে
নিয়োগ বোর্ড ও রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে
এসব কারণে নিয়োগটি “বিধি বহির্ভূত” হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দীর্ঘদিন সরকারি অংশের বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন, যা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)–এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
প্রমাণাদি সংযুক্তির দাবি
অভিযোগের সঙ্গে যেসব নথি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পত্রিকার কাটিং
যোগদানপত্র ও নিয়োগপত্র
শিক্ষাগত সনদপত্র (দাখিল, আলিম, ফাজিল)
স্নাতক ও বিপিএড প্রশিক্ষণের সনদ
নিয়োগ বোর্ডের কাগজপত্র ও রেজুলেশন
এসব নথি যাচাই করলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট হবে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুর রশীদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে—
ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল বলছেন, “অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য বড় প্রশ্ন। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।”
বিরামপুরের এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে স্বচ্ছতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন সবার নজর প্রশাসনের দিকে—তদন্তে কী বেরিয়ে আসে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *