জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট (ওয়েস্ট বেঙ্গল)-এর উদ্যোগে ৫০তম রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

অফিস ডেস্ক :
জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট (ওয়েস্ট বেঙ্গল)-এর উদ্যোগে ৫০তম রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৪ই মার্চ,শনিবার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী একাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এর কনফারেন্স হলে দুপুর সাড়ে বারোটায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মহিলা বাস চালক ডলি রানা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাস সিন্ডিকেটের প্রেসিডেন্ট সুকুমার বেরা, সেক্রেটারি তপন ব্যানার্জি, কনভেনার সৌমেন মাইতি ও শান্তনু মাইতি, ওর্গানাইজার দেবাংশি দাস। আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লব মজুমদার, প্রভাত পানসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাস মালিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ও বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের উত্তরীয় পরিয়ে এবং স্মারক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। ৪৯ বছর অতিক্রম করে ৫০তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে বেসরকারি পরিবহন ক্ষেত্রের নানা সমস্যা ও ভবিষ্যৎ দিশা নিয়ে এই রাজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে উদ্যোক্তারা বলেন, “মাটির ভাঁড়ে চা খেতে খেতে বেসরকারি পরিবহনের সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কেটে গেলো ৫০টি বছর। এই দীর্ঘ পথে যাঁরা আমাদের পাশে থেকেছেন, তাঁদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। যাঁরা আজ আর আমাদের মাঝে নেই, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি।”
তাঁরা আরও বলেন, গত পাঁচ দশকে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রীদের সঙ্গে বেসরকারি পরিবহন নিয়ে আলোচনা হলেও এখনও কোনও স্থায়ী সমাধান বা নতুন দিশা পাওয়া যায়নি।
বক্তারা জানান, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বেসরকারি বাস পরিষেবা মারাত্মক সংকটে পড়েছে। একাধিক দফায় পরিবহনমন্ত্রী ও দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হলেও সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান মেলেনি।
সম্মেলনে যে বিষয়গুলি বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে—
২০১৮ সালের পর রাজ্যে আর বাস ভাড়া বৃদ্ধি না হওয়া
প্রতিটি জেলায় টোল সমস্যার অমীমাংসিত অবস্থা
জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অটো ও টোটোর অবাধ চলাচল
কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে উবের বাস চলাচল নিয়ে অস্পষ্টতা
বাস চালকদের উপর ধারাবাহিক পুলিশি হয়রানি
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাস অধিগ্রহণ সংক্রান্ত স্পষ্ট গাইডলাইনের অভাব
এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই ২ ফেব্রুয়ারি ও ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে পরিবহনমন্ত্রী ও পরিবহন সচিবকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।
শেষে বক্তারা বলেন, “আজ আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। রাজ্যের সব বাস মালিক ইউনিয়ন যদি একযোগে জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের পাশে দাঁড়ায় এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করে, তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারব। পঞ্চাশ বছরে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে সকলের সহযোগিতায়—আগামীতেও ঐক্যবদ্ধ থাকলেই সব বাধা অতিক্রম করা যাবে।”