ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর  সম্পদ বেশি ইকবালের, মামলা বেশি হিরণের

ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর সম্পদ বেশি ইকবালের, মামলা বেশি হিরণের

আব্দুর রউফ দুদু গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ-

ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুরে স্থাবর আর অস্থাবর সম্পদে এগিয়ে আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন। শিক্ষাগত যোগ্যতাও তিনি অন্যদের ছাড়িয়েছেন। তবে মামলায় এগিয়ে আছেন বিএনপি থেকে মনোনয়নবঞ্চিত (উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদ থেকে বহিস্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা পরিষদে সাবেক চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ।

নির্বাচন কমিশনে দেয়া সূত্রে জানা যায়, ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইনের ৭টি ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৭৫১টাকা। আয়ের উৎসে রয়েছে নিজস্ব সঞ্চয় থেকে আয় ২৯লাখ টাকা। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ রয়েছে ২৭ কোটি ৩৬লাখ ৭১হাজার ৯৭৯টাকা। স্থায়ী সম্পদের তালিকায় রয়েছে ৩৯টি ভূমির বিবরণী। তিনি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার (মেকানিক্যাল)। তিনি পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসা।
তার বিরুদ্ধে রয়েছে রয়েছে ৫টি রাজনৈতিক মামলা। এরমধ্যে ২০১৩সনে গৌরীপুরে আন্ত:নগর ট্রেনে হামলার অভিযোগে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ধারায় এ মামলাটি হয় ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায়। একই বছরে বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইন ১৯০৮ সংশোধনী ২০০২ এর ৩/৬ধারায় এ মামলাটি হয় গৌরীপুর থানায়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও ৩টি মামলা হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের তাতরাকান্দা গ্রামের ইসমাইল হোসেন তালুকদার ও শারমীন হোসেনের পুত্র। তাঁর বাবা ছিলেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদ ছিলেন। ১৯৭৯সনে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা পরিষদে সাবেক চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো ৪৮টি। এরমধ্যে খালাস বা নিষ্পত্তিকৃত হয়েছে ৪১টি। বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে ৭টি। তিনি দেশজুড়ে আলোচিত জুলাই অভ্যুত্থানে উপজেলার কলতাপাড়ায় পুলিশের গুলিতে ৩ শহীদের ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলা ছিলেন ১নং আসামী। তার বিচারাধীন মামলার মধ্যে রয়েছে ১৮৭৮সনের অস্ত্র আইনে গৌরীপুর থানা ও তারাকান্দা থানার ২টি মামলা, বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইন ১৯০৮ (সংশোধনী-০২) এর ৩ধারায় ২টি, ১৯৭৪সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২টি।
আহাম্মদ তায়েবুর রহমান বিপুল ভোটে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার কৃষি মৎস্যখাতে আয় ১০লাখ টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ লাখ ৯৩হাজার ৮৪১টাকা। তার সোনা ও অন্যান্য ধাতু ও পাথরে তৈরি গহনার বিবরণীতে রয়েছে ৩০ ভরি সোনার অলংকার। ইলেকট্টনিক পণ্যের মধ্যে রয়েছে লাখ টাকা মূল্যের একটি টেলিভিশন, কম্পিউটার, আসবাবপত্রের মধ্যে রয়েছে খাট, আলমারী ও ড্রেসিং টেবিল।
আত্মীয়-স্বজনের নিকট হতে কর্জের তালিকায় রয়েছে মামাতো ভাই বাট্টা গ্রামের মাহবুব হাসানের নিকট থেকে ৩ লাখ, আত্মীয় স্বজনের নিকট হইতে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রদত্ত দান হিসাবে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থ কাউরাট গ্রামের মো. মোয়েতাছেবুর রহমান ৫লাখ, মো. কামরুল হাসানের নিকট থেকে ৫লাখ, সাইফুল ইসলামের নিকট থেকে ২ লাখ টাকা। আত্মীয়-স্বজন ব্যতীত অন্যান্য ব্যক্তির নিকট হইতে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান হিসাবে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কে প্রবাসী বিপ্লব দেবনাথের ৫লাখ টাকা, মহিশ্বরণ গ্রামের একেএম সওকত হোসেনের ২লাখ।
তিনি উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের কাউরাট গ্রামের মৃত আবু সাঈদ মাহমুদ ও আয়েশা মাহমুদের পুত্র। তার নিজগ্রাম কাউরাট মৌজায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত কৃষি ভূমি ১.৬৬ একর জমি রয়েছে। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সেমিপাকা বসতঘর ১টি রয়েছ। বাৎসরিক আয় ৮লাখ ৮০হাজার টাকা, ব্যয় ২লাখ ২৩হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়াও নির্বাচনের মাঠে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যস্ত রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা জামায়াতের আমির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা বদরুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিক্সা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ¦ মো. ফজলুর রহমান ও বাসদের (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক এ কে এম আরিফুল হাসান।
এ আসনটিতে ১৯৭৯ ও ১৯৯৬ সালে জয়ী হয় বিএনপি, ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৯১, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ দ্বাদশ নির্বাচনে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ প্রার্থী।
২০০৮সনে এ আসনে আ’লীগের প্রার্থী ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির ১লাখ ৭৭হাজার ২৮০ পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন। তিনি পেয়েছিলেন ৭৬হাজার ৫১৭ ভোট। এ নির্বাচেন জাকের পাটির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ ৩হাজার ১৬৭ ভোট, ন্যাপের প্রার্থী মো. আবদুর মতিন ৩হাজার ১৬৭ ভোট, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী মো. মতিউর রহমান ৪৭৭ ভোট ও গণফোরামের প্রার্থী মো. রজব আলী ২৫৫ ভোট পান। এ নির্বাচনে ২লাখ ৬০হাজার ৮৮৮জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। যা মোট ভোটের ৮৪.৫শতাংশ।
তবে বিএনপির ভোট বর্জনের ঘোষণায় ব্যতিক্রম ঘটে ২০২৪ সনের অনুষ্ঠিত দ্বাদশ নির্বাচনে। এ নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী এডভোকেট নিলুফার আনজুম পপি পান ৫৪ হাজার ৪৯১ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী সোমনাথ সাহা পান ৫২ হাজার ৫৬৬ ভোট। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলো ২লাখ ৭৫হাজার ৯৮৬জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৭ জন। যা মোট ভোটারের ৩৮.৮৮ শতাংশ।
উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নির্বাচনী আসন ১৪৭, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর)। উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. ফাওজুল কবীর খান জানান, এ উপজেলার এখন মোট ভোটার ২ লক্ষ ৯৪হাজার ৬০৮জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৪৮হাজার ৪৬৯জন আর মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৩৯ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৯২টি কেন্দ্রে ৫৩৮টি বুথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *