নিয়ম ভেঙে রহস্যজনকভাবে রাতভর খোলা ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস
মোঃ আনোয়ার হোসেন:
ময়মনসিংহের ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গভীর রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রেখে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অফিস সহকারী ও মোহরারের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন কক্ষের তালা খুলে স্পর্শকাতর সরকারি নথিপত্র নাড়াচাড়া করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একাধিক রাতে ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রারের বরাদ্দকৃত কার্যালয়ে আলো জ্বলতে দেখা গেলেও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতিতে অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় অফিসের ভেতরে অবস্থান করে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র নিয়ে কাজ করেছেন।
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত অফিস সময়ের বাইরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস খোলা রাখার কোনো সুযোগ নেই। বিশেষ করে অফিস সহকারী ও মোহরারের অনুপস্থিতিতে কোনো অননুমোদিত বা অস্থায়ী ব্যক্তির অফিস কক্ষে প্রবেশ এবং সরকারি নথিপত্র ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু দলিলের কাজ সম্পন্ন করা কিংবা বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিল করতেই রাতের আঁধারে এসব গোপন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ ঘটনায় সাধারণ দলিলগ্রহীতা ও সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে বড় ধরনের জালিয়াতি বা অবৈধ লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। বিষয়টির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মোহরার নাজমা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার কক্ষ খোলা থাকার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেননি। অপরদিকে অফিস সহকারী চন্দনা পন্ডিত রাতের বেলায় অফিস খোলা রাখার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, কাজের চাপ বেশি থাকায় তিনি কাজ করছিলেন। তবে মোহরারের অনুপস্থিতিতে তার কক্ষে প্রবেশের অনুমতি বা এর আইনগত যৌক্তিকতা সম্পর্কে তিনি কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রার ওমর ফারুক বলেন,
“অফিস সময়ের বাইরে বা রাতে কাজ করার কোনো বিধান নেই। কার অনুমতিতে এবং কীভাবে অফিস কক্ষে প্রবেশ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”