হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অপরিহার্য

হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অপরিহার্য

Sep 29, 2026

ডা. মো. মিজানুর রহমান

হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে তৈরি হয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, তামাকের ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদরোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। তাই সুস্থ বোধ করলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিত রক্তচাপ মাপা, চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা এবং পারিবারিক ইতিহাস জানা প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরল ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে; নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করা উচিত নয়। ধূমপান, জর্দা ও গুলসহ সব ধরনের তামাক বর্জন করতে হবে। খাবারে বাড়তি লবণ কমানো, অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করে শাকসবজি, ফল, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘসময় বসে থাকার অভ্যাস কমানো হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, বমিভাব কিংবা ব্যথা হাত, কাঁধ, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়লে তা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাসের সমস্যা ভেবে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। হৃদরোগ প্রতিরোধ শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতার বিষয় নয়; স্বাস্থ্যকর খাবার, নিরাপদ হাঁটার পরিবেশ, তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও পরিবার, সমাজ ও সরকারের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সময়মতো চিকিৎসাই হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

লেখক পরিচিতি:
ডা. মো. মিজানুর রহমান
চিকিৎসক ও কলামিস্ট
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিস লিমিটেড, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *