ঐক্যের কথা বলে বিভাজন কেন—এম এ রউফ

ঐক্যের কথা বলে বিভাজন কেন—এম এ রউফ

Sep 22, 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ঐক্যের কথা বলে বিভাজন সৃষ্টি করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে বাস্তবে অনিয়মে জড়িয়ে পড়া এবং দেশের কল্যাণের কথা বলে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্যোক্তা ও সংগঠক দেশপ্রেমিক এম. এ. রউফ।
তিনি বলেন, “আপনি নিজেই ঐক্যের কথা বলছেন, দেশের ভালো চান; আবার আপনিই যদি বিভাজন সৃষ্টি করেন, তাহলে এত সুন্দর সুন্দর বক্তব্য দেওয়ার অর্থ কী—এই প্রশ্ন রেখে গেলাম।”
এম. এ. রউফ বলেন, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা সহজ; কিন্তু বাস্তব জীবনে সেই নীতির প্রতিফলন ঘটানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি প্রকাশ্যে বলেন, ‘ঘুষ খাব না, ঘুষ দেব না’, অথচ বাস্তবে এর বিপরীত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তার বক্তব্য ও কাজের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের কল্যাণ, জনগণের অধিকার ও জাতীয় ঐক্যের কথা বলা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বিষয়। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাস্তব কর্মকাণ্ড, আচরণ ও সিদ্ধান্তের দিকে নজর দিতে হবে।
এম. এ. রউফ বলেন, মানুষের জীবনে পরিবর্তন আসা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। অতীতে কেউ ভুল পথে থাকলেও পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ভালো পথে ফিরে এলে তাকে স্বাগত জানানো উচিত। তবে সত্যিকার পরিবর্তনের প্রমাণ শুধু বক্তব্যে নয়, কাজের মধ্যেও প্রকাশ পেতে হবে।
তিনি বলেন, “কেউ যদি সত্যিই পরিবর্তিত হয়ে ভালো পথে ফিরে আসেন, তাহলে তাকে আর আগের ভুলের পথে না ফেরার জন্য দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করতে হবে। অতীতের ভুল থাকলে তা গোপন না করে স্বীকার করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ভুল না করার দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়াই হবে সত্যিকারের পরিবর্তনের প্রমাণ।”
তিনি আরও বলেন, সমাজে কেউ ভালো কথা বললেই তাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে তার কথার সঙ্গে কাজের মিল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি যে নীতির কথা বলছেন, বাস্তব জীবনেও সেই নীতি অনুসরণ করছেন কি না—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এম. এ. রউফের মতে, একজন ব্যক্তি সমাজের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন, নাকি ভালো বক্তব্যের আড়ালে ব্যক্তিগত কিংবা অন্য কোনো স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন—তা জনগণের পর্যবেক্ষণের বিষয়। সত্যিকার অর্থে ভালো হতে চাইলে স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহির মানসিকতা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা সুন্দর বক্তব্যের পাশাপাশি সুন্দর কাজও দেখতে চাই। ঐক্যের কথা বললে ঐক্যের পরিবেশ তৈরি করতে হবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে দুর্নীতি থেকে দূরে থাকতে হবে এবং দেশের কল্যাণের কথা বললে দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখতে হবে।”
সবশেষে তিনি বলেন, কথা নয়, কাজ দিয়েই মানুষের সত্যিকারের অবস্থান মূল্যায়ন করা উচিত। তাই কোনো ব্যক্তির বক্তব্যের পাশাপাশি তার কর্মকাণ্ড, আচরণ, অতীতের ভুল স্বীকারের মানসিকতা এবং বর্তমান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেই প্রকৃত সত্যের সন্ধান করা প্রয়োজন।
—এম. এ. রউফ
প্রতিষ্ঠাতা, উদ্যোক্তা ও সংগঠক
রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *