সুনামগঞ্জে কুয়েত ফেরত প্রবাসীর আম বাগানে ক্রেতাদের ভিড়

অফিস ডেস্কঃ
হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে সফলতার মুখ দেখেছেন কুয়েত ফেরত প্রবাসী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান মিরাশ মিয়া। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি ও মধ্যনগর এলাকায় গড়ে তোলা তার দুটি আম বাগানে এখন বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আমের সমারোহ। জেলার একমাত্র বাণিজ্যিক এ দুটি আম বাগান ঘিরে প্রতিদিনই বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা।
জানা যায়, ২০১৩ সালে রাজশাহীতে বেড়াতে গিয়ে আম চাষে উদ্বুদ্ধ হন মিরাশ মিয়া। পরে হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি ও আশ্বিনা জাতের কলমের চারা সংগ্রহ করে নিজ এলাকার প্রায় ৪ একর পতিত জমিতে দুটি বাগান গড়ে তোলেন। বর্তমানে বাগান দুটিতে রয়েছে ৪ শতাধিক আমগাছ।
আম পাকতে শুরু করায় প্রতিদিন সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ক্রেতারা সরাসরি বাগানে এসে আম কিনছেন। বাগান দুটিতে কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত চারজন শ্রমিকের। শ্রমিকরা জানান, বাগানে কাজ করে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন।
বাগান মালিক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান মিরাশ বলেন, চলতি বছর প্রায় ১৭০ মন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকার বেশি আম বিক্রি হয়েছে।
৩ নম্বর ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিলন মিয়া বলেন, সুনামগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আমের এমন বাগান বিরল। কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে এই বাগান থেকে আরও বেশি আম উৎপাদন সম্ভব হবে এবং জেলার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়দের আশা, হাওর অঞ্চলে ধানের পাশাপাশি ফল চাষের এই সফল উদ্যোগ অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।