আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
চাঁদামুক্ত, অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমুখী সংগঠন গড়ার অঙ্গীকার স্লোগান: চাঁদা নয়, স্বেচ্ছা সহযোগিতা; অর্থ নয়, অবদানই মর্যাদার ভিত্তি। আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, International Remittance Juddah Shonshod একটি চাঁদামুক্ত, অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমুখী সংগঠন হিসেবে দেশের স্বার্থ, জনগণের ন্যায্য অধিকার এবং বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ১. আমাদের মূল অঙ্গীকার আমাদের সংগঠনে সদস্যপদ গ্রহণ বা বজায় রাখার জন্য কোনো বাধ্যতামূলক সদস্য ফি, মাসিক চাঁদা, বার্ষিক চাঁদা কিংবা নিয়মিত অর্থ প্রদান করতে হবে না। আমাদের কাছে সদস্যপদ অর্থের বিনিময়ে অর্জনের বিষয় নয়। সদস্যপদ হবে আদর্শ, সততা, সেবা, দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণে অবদানের ভিত্তিতে। কোনো সদস্য আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে না পারলেও তিনি সংগঠনের একজন সম্মানিত সদস্য হিসেবে কাজ করতে পারবেন। অর্থনৈতিক সামর্থ্যের কারণে কারও মর্যাদা, মতামত কিংবা অংশগ্রহণের অধিকার খর্ব করা যাবে না। ২. সংগঠন পরিচালিত হবে কীভাবে? আমাদের মূলনীতি হলো: No Compulsory Subscription — Voluntary Support Only. অর্থাৎ, কোনো বাধ্যতামূলক চাঁদা নয়; সহযোগিতা হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক। সংগঠনের বৈধ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনে কোনো ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় স্বেচ্ছা অনুদান দিতে পারবেন। তবে এই অনুদান কখনো বাধ্যতামূলক করা যাবে না। কাউকে অনুদান দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে বাধ্য করা কিংবা অনুদান না দেওয়ার কারণে কোনো সদস্যকে অবমূল্যায়ন করা যাবে না। অনুদান না দেওয়ার কারণে কারও সদস্যপদ, সম্মান, সাংগঠনিক মর্যাদা বা প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত করার নীতি আমরা সমর্থন করি না। ৩. চাঁদা ও স্বেচ্ছা অনুদানের পার্থক্য আমাদের দৃষ্টিতে চাঁদা ও স্বেচ্ছা অনুদান এক বিষয় নয়। চাঁদা: নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করা অথবা চাপ সৃষ্টি করে কারও কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা। স্বেচ্ছা অনুদান: কোনো ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায়, কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই এবং ব্যক্তিগত সুবিধা বা বিশেষ ক্ষমতা লাভের শর্ত ছাড়া সংগঠনের বৈধ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা। সুতরাং আমাদের নীতি: চাঁদা নয়, স্বেচ্ছা সহযোগিতা। বাধ্যবাধকতা নয়, মানবিক অংশগ্রহণ। অর্থের প্রভাব নয়, আদর্শের মূল্যায়ন। ব্যক্তিস্বার্থ নয়, জনকল্যাণ। বৈষম্য নয়, সবার জন্য সমান মর্যাদা। ৪. আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সংগঠনের নামে কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অর্থ প্রদান করলে সেই অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত নীতিগুলো অনুসরণ করা হবে: ১. অর্থ গ্রহণের উদ্দেশ্য আগে থেকেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। ২. কত টাকা গ্রহণ করা হয়েছে এবং কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, তার যথাযথ রেকর্ড রাখতে হবে। ৩. সম্ভব হলে সংগঠনের অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ ও ব্যয় পরিচালনা করতে হবে। ৪. ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সংগঠনের নামে অর্থ সংগ্রহ নিরুৎসাহিত করা হবে। ৫. প্রতিটি প্রকল্পের আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাসম্ভব স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে। ৬. সংগঠনের আর্থিক কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, জনকল্যাণমূলক সংগঠনের প্রতি মানুষের আস্থা অর্জনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। ৫. সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বাধ্যতামূলক অর্থ আদায় নিষিদ্ধ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের নাম, পদবি, লোগো কিংবা সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করে বাধ্যতামূলক চাঁদা দাবি করলে তা সংগঠনের অনুমোদিত কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে না। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রমাণসহ কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। প্রতারণা, জবরদস্তি, চাঁদাবাজি কিংবা বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলে যথাযথ প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। সব ধরনের পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে গ্রহণ করতে হবে। ৬. আমরা কেন চাঁদামুক্ত সংগঠন চাই? সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসার দর্শনের মূল বক্তব্য হলো—যে সংগঠন মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার কথা বলে, সেই সংগঠনে অর্থের কারণে যেন কোনো মানুষের অধিকার ও মর্যাদা কমে না যায়। একজন ধনী সদস্য এবং একজন স্বল্প আয়ের সদস্যের সাংগঠনিক মর্যাদা সমান হওয়া উচিত। কেউ বেশি অর্থ দিয়েছেন বলে তিনি অতিরিক্ত ক্ষমতা বা বিশেষ সুবিধার অধিকারী হবেন না। আবার কেউ আর্থিক সহযোগিতা করতে পারেননি বলে তাঁর মতামত, সম্মান কিংবা অবদানকে ছোট করে দেখা যাবে না। আমাদের বিশ্বাস, অর্থ নয়—আদর্শ, সততা, মানবিকতা ও জনকল্যাণে অবদানই হবে মর্যাদা মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি। ৭. আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ নিম্নলিখিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ: চাঁদামুক্ত ও জনকল্যাণমুখী সংগঠন গড়ে তোলা। চাঁদাবাজি ও জবরদস্তিমূলক অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা। নেতৃত্বে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা। জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সততা ও মানবিকতা নিশ্চিত করা। প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখা। দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐক্যকে উৎসাহিত করা। একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখা। আমাদের প্রতিটি উদ্যোগ হবে শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও জনকল্যাণমুখী। ৮. দেশপ্রেমিক ও মানবিক মানুষের প্রতি আহ্বান আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশের কল্যাণে, জনগণের অধিকার রক্ষায় এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ন্যায্য স্বার্থ ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। আমরা কারও কাছ থেকে বাধ্যতামূলক অর্থ চাই না। আমরা চাই মানুষের সময়, অভিজ্ঞতা, পরামর্শ, শ্রম, মেধা ও আন্তরিক অংশগ্রহণ। কেউ নিজের ইচ্ছায় আর্থিক সহযোগিতা করতে চাইলে তা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নীতিতে স্বেচ্ছা অনুদান হিসেবে গ্রহণ করা হবে। আমাদের কাছে মানুষের ভালোবাসা, সততা, দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণে অবদানই সবচেয়ে মূল্যবান। ৯. আমাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা “সদস্যপদ চাঁদামুক্ত, সেবা স্বেচ্ছামূলক, আর্থিক হিসাব স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।” No Subscription. No Compulsory Collection. Voluntary Donation Only. আমরা এমন একটি সমাজ ও বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে মানুষের অধিকার অর্থের কাছে জিম্মি হবে না, সংগঠনের নামে কেউ জবরদস্তি করতে পারবে না এবং জনকল্যাণের নামে কোনো ধরনের অনৈতিক আর্থিক কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় পাবে না। আসুন, চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।
দেশপ্রেমিক এম এ রউফ (কাতার)
প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা ও সংগঠক
সদস্য সচিব
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
International Remittance Juddah Shonshod
ফোন: 00974 66958035
ই-মেইল: roufnasrin@gmail.com