প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার চাই; নারীর মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর আইনগত পদক্ষেপের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের স্ত্রী, কন্যা ও পরিবারের নারী সদস্যদের সম্পর্কে অশালীন, অমর্যাদাকর ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যের ঘটনায় বাংলাদেশের নীরবতায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক, দার্শনিক দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা। তিনি বলেছেন, প্রবাসীদের পরিবারের নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা করা শুধু প্রবাসীদের দাবি নয়, এটি জাতীয় দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং আইনসম্মত প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন। ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি এ ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশিও বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। তবে অপরাধের বিচার অবশ্যই আইন, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠিত নীতির ভিত্তিতে হতে হবে। প্রবাসীদের অবদান ও পরিবারের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান
বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রবাসীরা বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থেকে জীবিকার তাগিদে বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করেন। কেউ মরুভূমির প্রচণ্ড গরমে, কেউ শীতপ্রধান দেশে, কেউ নির্মাণশ্রমিক হিসেবে, আবার কেউ চিকিৎসক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠান। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অন্যদিকে, দেশে থাকা তাঁদের স্ত্রী, কন্যা, মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নানা সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের সম্পর্কে অশালীন, অপমানজনক কিংবা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য শুধু প্রবাসীদের অনুভূতিতে আঘাত করে না; এটি নারীর ব্যক্তিগত মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ আইনের দৃষ্টিতে সমতার নীতি প্রতিষ্ঠা করেছে। ২৮ অনুচ্ছেদে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করার নীতি রয়েছে এবং ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। এ ছাড়া ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনগত পরামর্শ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ ঘটনার আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবী ও আইনজীবী সমিতির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা জানান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা জজ কোর্ট আইনজীবী সমিতি এবং ঢাকা মহানগর আইনজীবী সমিতির সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের পথ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মানবাধিকার আইনজীবী মঞ্জিল মোর্শেদের পরামর্শ নেওয়ার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়। এ কার্যক্রমে সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা এবং ঢাকা মহানগর আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ। তাঁদের সমন্বয়ে একটি আইনগত পরামর্শ বোর্ড গঠন এবং এ বিষয়ে আলোচনা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত বোর্ডের উদ্দেশ্য হবে অভিযোগের প্রকৃতি পর্যালোচনা, প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ, প্রযোজ্য আইনের ধারা চিহ্নিত করা, উপযুক্ত আদালত ও আইনগত প্রতিকারের পথ নির্ধারণ এবং আইনসম্মতভাবে বিচার চাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে পরামর্শ দেওয়া। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ যেন শুধু সাময়িক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ না থাকে। ভবিষ্যতে নারীদের মর্যাদাহানিকর বক্তব্য ও হয়রানি প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের আহ্বান অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইন বিশেষজ্ঞ, নারী অধিকার সংগঠন, প্রবাসী প্রতিনিধি ও মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, গুরুতর ও পুনরাবৃত্তিমূলক যৌন হয়রানি, বিশ্বাসযোগ্য হুমকি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যক্তিগত মর্যাদাহানির মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে অপরাধের প্রকৃতি ও মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি, দ্রুত বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, সঠিক আইন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থাই প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি। বিভাজন নয়, ঐক্য; প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে পরিচালিত হচ্ছে না। তাঁরা চান না কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিক কিংবা কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হোক। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ার কারণে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর দায়মুক্তি পান, সেটিও তাঁরা মেনে নিতে চান না। তিনি বলেন, মানুষের প্রকৃত শক্তি তার জ্ঞান, যুক্তি, নৈতিকতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের মধ্যে নিহিত। তাঁর দর্শন হলো—জ্ঞান অর্জন করা, সত্যকে চেনা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং পৃথিবীকে আগের চেয়ে কিছুটা হলেও সুন্দর করে রেখে যাওয়া। তিনি আরও বলেন, রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনৈতিক শক্তি, ঐক্য আমাদের সামাজিক শক্তি এবং আইন ও ন্যায়বিচার আমাদের গণতান্ত্রিক শক্তি। তাই বারবার রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি না দিয়ে সুপরিকল্পিত, ঐক্যবদ্ধ ও আইনসম্মত আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। এম এ রউফের ক্ষোভ ও ঐক্যের আহ্বান এদিকে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব এম এ রউফ এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন মানুষ কতটা বিবেকহীন হলে অন্যের স্ত্রী, কন্যা ও পরিবারের নারী সদস্যদের নিয়ে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে পারেন, তা ভাবতেও কষ্ট হয়। তাঁর মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় অবস্থান না নিয়ে নীরব থাকা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল। তিনি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একে অপরের বিরুদ্ধে বিভক্ত না হয়ে সম্মিলিত শক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় পারস্পরিক ঐক্য, দায়িত্বশীল আচরণ এবং আইনসম্মত পদক্ষেপের বিকল্প নেই। এম এ রউফ বলেন, তাঁরা বাংলাদেশের বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের সেবা, প্রবাসীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায্য অধিকার, তাঁদের স্ত্রী-কন্যাদের মর্যাদার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা চান। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ঘোষিত ছয় দফা অধিকার বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি। দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি বিবৃতির শেষাংশে অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান ও তাঁদের পরিবারের সম্মান রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে আবেগের পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণ, আইন ও ন্যায়বিচারকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি বলেন, “বিভাজন নয়, ঐক্য চাই; প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার চাই।” প্রবাসীদের পরিবারের নারী সদস্যদের মর্যাদা রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সবার প্রতি সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানান। বিবৃতিদাতা: দার্শনিক দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ প্রধান সমন্বয়ক, বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট সেফটি ক্যাম্পেইন (BASC), যুক্তরাজ্য।
এম এ রউফ
সদস্যসচিব, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ, কাতার।
ই-মেইল: roufnasrin@gmail.com
যোগাযোগ: 00974 66958035
তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬