যেমন কর্ম, তেমন ফল—ন্যায়বিচারে নিরপেক্ষতা জরুরি পারিবারিক বিরোধের বিচার করতে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ নয়, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘যেমন কর্ম, তেমন ফল’—প্রচলিত এই প্রবাদটি মানুষের কর্ম ও তার পরিণামের মধ্যে গভীর সম্পর্ক তুলে ধরে। মানুষ যেমন কাজ করে, তার ফলও অনেকাংশে তেমনই হয়ে থাকে। ভালো কাজের মাধ্যমে সম্মান, সাফল্য ও সুখ অর্জিত হতে পারে। অন্যদিকে, অন্যায় ও অসৎ কাজের পরিণতিতে অপমান, অনাস্থা, বিরোধ কিংবা শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। লেখক এম এ রউফ তাঁর বক্তব্যে এই প্রবাদটির তাৎপর্য তুলে ধরে বলেছেন, মানুষের উচিত নিজের কর্মের পরিণাম উপলব্ধি করা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে নৈতিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া। কর্মফল ও নৈতিকতার শিক্ষা ‘যেমন কর্ম, তেমন ফল’—ইংরেজিতে প্রচলিত প্রবাদটি হলো, As you sow, so shall you reap। অর্থাৎ, আপনি যেমন বীজ বপন করবেন, তেমনই ফসল পাবেন। এই প্রবাদ মানুষের কর্মফল ও নৈতিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই কোনো ঘটনার পরিণতি নিয়ে অযথা চিৎকার-চেঁচামেচি না করে নিজের কাজের যথার্থতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন। পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে নিরপেক্ষতা জরুরি এম এ রউফের বক্তব্যে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কোনো পরিবারে ভাই-বোনদের মধ্যে সমস্যা বা বিরোধ দেখা দিলে এবং কাউকে তা মীমাংসার দায়িত্ব দেওয়া হলে তাঁর প্রধান কর্তব্য হলো নিরপেক্ষ থাকা। প্রত্যেকের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা, তথ্য যাচাই করা এবং কারও প্রতি পক্ষপাত না করে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু বিচার করার দায়িত্ব পেয়ে যদি কেউ নিজের স্বার্থে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন, তাহলে তা নৈতিকতার পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের পরিস্থিতিকে স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest), স্বজনপ্রীতি কিংবা দায়িত্বের অপব্যবহারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা যেতে পারে। পক্ষপাতিত্বের পরিণতি পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও পক্ষপাতিত্বের কারণে কয়েকটি গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশ্বাসভঙ্গ: পরিবারের সদস্যরা বিচার বা বিরোধ মীমাংসার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ওপর যে আস্থা রাখেন, পক্ষপাতমূলক আচরণ সেই বিশ্বাস নষ্ট করতে পারে। অন্যায় ও অবিচার: ব্যক্তিগত সুবিধা বা সম্পর্কের কারণে প্রকৃত ঘটনা উপেক্ষিত হলে নির্দোষ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এবং অন্যায়কারী জবাবদিহির বাইরে থেকে যেতে পারেন। পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি: পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের কারণে ভাই-বোনদের মধ্যে দূরত্ব, ক্ষোভ ও ভুল বোঝাবুঝি বাড়তে পারে। এর ফলে পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান লেখক এম এ রউফের বক্তব্যের মূল শিক্ষা হলো, দায়িত্বশীল মানুষের উচিত ব্যক্তিগত লোভ, স্বার্থ ও সুযোগ-সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। বিশেষ করে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, সততা ও সুবিচার বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ বিচার করার দায়িত্ব পেলেই তিনি পক্ষপাত করার অধিকার পেয়ে যান না। বরং সেই দায়িত্ব তাঁর নৈতিক দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
লেখক: এম এ রউফ