আমাদের সংগঠন টোটালি চাঁদা মূক্ত সংসদ
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
অধিকার চাই অবহেলা কেনন। স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই স্বাধীনতা চাই। আমাদের তরিকা লক্ষ্য করুন।
আপনার টা আপনার আমার টা আমার। আমার অধিকার আপনি নিবেন না। আপনার অধিকার আমরা নিবো না। আপনার অধিকার আপনি নিজেই ভোগ করবেন। আমরা নিবো না। *আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আইনগত অবস্থান ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিবৃতি* আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ ও রংধনু নারী ফাউন্ডেশন পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের নিবন্ধন, আইনগত অবস্থান এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সেসব মতামতকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছি এবং সংগঠনের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করছি। *আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা* আমরা সর্বাগ্রে বাংলাদেশের সংবিধান এবং প্রচলিত সকল আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আমাদের প্রতিটি কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসার মতে, ন্যায়সংগত অধিকার দাবি করা কোনো অপরাধ নয়। বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ, সংগঠন গঠন এবং অধিকার আদায়ের দাবিতে অংশগ্রহণের মৌলিক অধিকার প্রদান করেছে। তবে কোনো সংগঠন যখন ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, সম্পত্তির মালিকানা, চুক্তি সম্পাদন, অনুদান গ্রহণ বা আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে, তখন অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের প্রচলিত আইন ও নিবন্ধন সংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করতে হবে। *সাংবিধানিক ভিত্তি* সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদ: শান্তিপূর্ণ ও অস্ত্রবিহীন সমাবেশ, সভা এবং শোভাযাত্রার অধিকার নিশ্চিত করে। সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ: নাগরিকদের সংগঠন, সমিতি বা ফোরাম গঠনের অধিকার স্বীকৃতি দেয়। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ: চিন্তা, বিবেক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে, তবে আইনসঙ্গত সীমার মধ্যে। সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদ: মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্টে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ প্রদান করে। *আমাদের লক্ষ্য ও দাবি* আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। আমাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
– প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
– প্রবাসী পেনশন বা কল্যাণ তহবিল চালু করা।
– বিমানবন্দরে সম্মানজনক ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা।
– প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা।
– প্রবাসীদের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
– শান্তিপূর্ণভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও জনমত গঠন। *সাংগঠনিক কার্যক্রম* বর্তমানে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিভিন্ন দেশে ধাপে ধাপে জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসলে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়েছে। *২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলন* সংগঠনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের নভেম্বর মাসে একটি আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, আমেরিকা অথবা উপযুক্ত অন্য কোনো দেশে এই সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। *মহাসম্মেলনে—* – পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক কমিটি ঘোষণা, – গঠনতন্ত্র অনুমোদন, – সদস্যপদ ও নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ, – আর্থিক নীতিমালা গ্রহণ, – জবাবদিহি ও নিরীক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন, – এবং উপযুক্ত দেশে আইনগত নিবন্ধন গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। *সম্মাননা প্রদান* সংগঠনটি নবাব স্যার সলিমুল্লাহর শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সাংগঠনিকভাবে “দেশবন্ধু” খেতাবে ভূষিত করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলায় শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখা ৬৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে “দেশবন্ধু পদক” প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই সম্মাননা সম্পূর্ণ বেসরকারি ও সাংগঠনিক স্বীকৃতি; এটি কোনো সরকারি পদক, রাষ্ট্রীয় উপাধি বা একাডেমিক ডিগ্রি নয়। *নিবন্ধন সম্পর্কে আমাদের অবস্থান* আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ বর্তমানে কোনো সরকারি নিবন্ধিত সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা রাষ্ট্রস্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করছে না।
*আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—*- অধিকার আদায়ের আন্দোলনের জন্য নিবন্ধন পূর্বশর্ত নয়।
– তবে স্থায়ী, জবাবদিহিমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যথাসময়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিবন্ধন গ্রহণ করা হবে।
– নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনটি শান্তিপূর্ণ প্রচারণা, গবেষণা, ভার্চুয়াল সভা, স্মারকলিপি প্রদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কোনো অর্থ, অনুদান বা চাঁদা গ্রহণ করা হলে তা সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, ব্যাংকিং বিধি ও করনীতি অনুসরণ করেই গ্রহণ করা হবে।
*অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসার বক্তব্য* «”অধিকার দাবি করতে নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় না। তবে একটি সংগঠনকে স্থায়ী, জবাবদিহিমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালনা করতে হলে যথাসময়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিবন্ধন গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমরা বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সংগঠন গড়ে তুলছি। ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলনের পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও গঠনতন্ত্র অনুমোদনের মাধ্যমে উপযুক্ত আইনি কাঠামোর অধীনে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে।”» আমরা আশা করি, এই বিবৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা, সাংবিধানিক ভিত্তি, আইনগত অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সকলের বিভ্রান্তি দূর হবে। গঠনমূলক পরামর্শ ও সংশোধনকে আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। আমরা মানুষ, তাই অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে। কোনো ভুল চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে আমাদের জানাবেন। আমরা তা সংশোধন করতে সর্বদা প্রস্তুত।
নিবেদক
এম. এ. রউফ
সদস্য সচিব
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ