টংগীতে কালবেলা গাজীপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনের ওপর হামলা-অপহরণের প্রতিবাদে মানববন্ধন
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনের ওপর হামলা, অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, চাঁদা দাবি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগের প্রতিবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও অপহরণের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হামলা, নির্যাতন, চাঁদা দাবি কিংবা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য অশনিসংকেত। অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। তাই গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাদাত হোসেন কামাল (খান), সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি নেতা বি এম শামীম, গাজীপুর সেন্ট্রাল ক্লাবের সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব রিংকো, টংগী রিপোর্টার্স ক্লাবেরর সাধারন সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান সাহা গাজীপুর মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান জিলানী, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল বারী চৌধুরী, সহসভাপতি আব্দুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউদ্দিন খান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন গাজীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আবুল বাশার পলাশ, জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ওয়েলফেয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি গাজী মামুন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন টঙ্গী পূর্ব থানার যুগ্ম আহ্বায়ক মোক্তার হোসেন বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকের কলম স্তব্ধ করে অপরাধ আড়াল করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপন ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবাল বলেন, সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয় বরং সমাজের অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরাই সাংবাদিকদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক যদি অপহরণ, নির্যাতন, চাঁদাবাজি কিংবা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হন, তাহলে তা শুধু ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না; চাই সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার। মহিন উদ্দিন রিপনের ঘটনায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তা দিতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ দেওয়া যাবে না। কেন্দ্রীয় সভাপতি এ কে এম আজিজুল হক বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে সত্য প্রকাশের অধিকার এবং সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকার সুরক্ষিত করা। তাই এ ঘটনায় দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন চৌধুরী, সহসভাপতি এস এম কামাল ও সিকান্দার আনন্দ, সহসাধারণ সম্পাদক রুম্মান শেখ ও ইসমাইল হোসেন, মাহবুব আলম জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মামুন আহমদ ফিরোজ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার টঙ্গী প্রতিনিধি রেজাউল কবির রাজীব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. পাপেল মিয়া, সাংবাদিক মামুন হাসান, সুজন সারওয়ার, পারভীন ইতি, মো. আনু হাসান, মহুয়া, মোহাম্মদ শামীম রেজা, হানিফ মিয়া, মামুন আহসান, মো. খোকন মিয়া ও জসীম উদ্দীন জুয়েলসহ বিভিন্ন সাংবাদিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।