টঙ্গীতে কালবেলার সাংবাদিককে অপহরণ-নির্যাতনের অভিযোগ, ধারণ করা হয় আপত্তিকর ভিডিও

টঙ্গীতে কালবেলার সাংবাদিককে অপহরণ-নির্যাতনের অভিযোগ, ধারণ করা হয় আপত্তিকর ভিডিও

Oct 27, 2026

গাজীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুরের টঙ্গীতে দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ করে নির্যাতন, এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি মাদক, ছিনতাই ও সন্ত্রাসবিরোধী সংবাদ প্রকাশ না করতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে টঙ্গী বাজারের সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্স-সংলগ্ন হোন্ডা রোডের সামনে থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপন জানান, সোমবার দুপুরে সংবাদ সংগ্রহের কাজে টঙ্গী সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে শাহ সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কথা বলে বের হওয়ার সময় একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে। পরে মোটরসাইকেলসহ তাকে চোখ-মুখ বেঁধে জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তার অভিযোগ, সেখানে নিয়ে তাকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। মহিন উদ্দিন রিপনের আরও অভিযোগ, পরে তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করা হয়। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে হাজীর মাজার বস্তি এলাকার মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে ফেসবুক লাইভ বা সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। তিনি জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টঙ্গী শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার জ্ঞান ফিরে আসে। এ বিষয়ে শাহ সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি আমার সঙ্গে অবস্থানকালে একদল অপরিচিত লোক তাকে জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তারা আমাকে চুপ থাকার জন্যও হুমকি দেয়। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *