পুলিশ-প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা: ৪টি মোবাইল ও ৩৮টি সিমসহ গ্রেফতার ১

পুলিশ-প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা: ৪টি মোবাইল ও ৩৮টি সিমসহ গ্রেফতার ১

Jun 3, 2026
অফিস ডেস্কঃ
পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং রাজনৈতিক নেতার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে এক আঞ্চলিক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন কোম্পানির মোট ৩৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখে এক ব্যক্তি নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে দাবি করে, তার ওষুধ সেবন করে এক শিশু মারা গেছে। মামলা থেকে রেহাই পেতে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ভয় পেয়ে নগদ অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন।
এরপর একই ব্যক্তি ৩০ মে ২০২৬ তারিখে নিজেকে সিআইডির এসপি জাহিদ পরিচয় দিয়ে এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন ও বার্তা পাঠায়। সে অভিযোগ করে যে, ওই দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালিত হয় এবং মামলা না করতে ৪০ হাজার টাকা দাবি করে।
এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জেলা গোয়েন্দা শাখা ও পুলিশ সুপারের আইসিটি শাখাকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযানে নামে ডিবির একটি বিশেষ দল।
অভিযান চালিয়ে গতকাল রাতে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার নামাপোওতা গ্রামের বাসিন্দা মো. নাইম হোসেন (২৮)-কে সান্তাহার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন, ৩টি সচল সিমসহ বিভিন্ন অপারেটরের মোট ৩৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি স্বীকার করে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কখনো পুলিশ সুপার, কখনো ওসি, কখনো জেলা প্রশাসক (ডিসি) কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *