কালীগঞ্জে কচুরিপানার দখলে শীতলক্ষ্যায় নদী, নৌযান চলাচল চরম ব্যাহত
অফিস ডেস্ক :
গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে আসা অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণে নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। নদীর বুক জুড়ে মাইলের পর মাইল কচুরিপানার ঘন আস্তরণ তৈরি হওয়ায় নৌকা চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা কচুরিপানা নদীর জামালপুর খেয়াঘাট ও নারগানা খেয়াঘাট এলাকায় আটকে গিয়ে বিশাল জটের সৃষ্টি করেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে পারাপার হতে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি সময় লাগছে। ইঞ্জিনচালিত নৌকার পাখায় (প্রপেলার) কচুরিপানা পেঁচিয়ে ঘন ঘন ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাচ্ছে। ছোট ডিঙি নৌকাগুলো কচুরিপানার চাপে মাঝ নদীতে আটকা পড়ছে। অফিসগামী যাত্রী, স্থানীয় কৃষক এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। জামালপুর ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছামাদ মৃধা জানান আমি বিগত ২৫ বছর যাবৎ নরসিংদীর পলাশ বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করে আসছি। প্রতিদিন জীবিকার কাজে আমিসহ অসংখ্য ব্যবসায়ী সকাল বিকাল নদী পারাপার হয়। বর্তমানে নদীতে কচুরিপানা থাকার কারনে অনেক্ক্ষণ পর পর যাত্রী পারাপার করে এবং ভাড়া দিগুণ রাখে। এতে করে আমি সহ সাধারণ শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তীর শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয় মাঝী শম্ভু দাস বলেন আমি প্রায় ৩৫ বছর যাবত এই খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপার করে আসছি। বর্তমানে কচুরিপানার স্তূপ থাকার কারনে নদী পারাপার হতে প্রায় ৩০- ৪০ মিনিট সময় লাগে। যাহা পুর্বে ৪/৫ মিনিট সময় লাগতো এইজন্য অধিক পরিশ্রম হওয়ার কারনে ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। কালীগঞ্জ থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নারগানা এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া আল মামুন বলেন শীতলক্ষ্যার দুইপাড়ে অসংখ্য ফ্যাক্টরি অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে শীতলক্ষ্যা দখল এবং সেভেন রিং সিমেন্ট ফ্যাক্টরির শত শত জাহাজ নদীতে একসাথে থাকার কারণে নদীর নাভ্যতা ও স্রোত কমে যাওয়ায় কচুরিপানা জমাট বেঁধে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছি। স্থানীয় প্রশাসন সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি নদীর দুই পাড়ে অবৈধ দখলমুক্ত করে নদীর স্রোত ফিরিয়ে আনার।