প্রেস বিজ্ঞপ্তি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Aug 1, 2026

প্রবাসীদের অবহেলা করা মানে জাতীয় উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তিকে অবমূল্যায়নের শামিল – আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ভার্চুয়াল সভায় ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান – অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা। আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক.
গত শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, যুক্তরাজ্য সময় বিকেল ৫টায় আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা, অধিকার, মর্যাদা এবং সংগঠনের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্পিকার সংগঠনের সদস্যসচিব এম. এ. রউফ। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল হক। সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, প্রবাসীরা শারীরিকভাবে বিদেশে অবস্থান করলেও তাঁদের হৃদয়, মন ও চিন্তা সবসময় বাংলাদেশকে ঘিরে থাকে। তাঁরা শুধু নিজেদের পরিবারের জন্যই নয়, আত্মীয়স্বজন, গ্রাম, পাড়া-প্রতিবেশী, সমাজ এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরা দিনের পর দিন পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে কঠোর পরিশ্রম করেন। অনেকেই প্রচণ্ড গরম, তীব্র শীত, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ এবং নানা ধরনের সামাজিক ও মানসিক চাপের মধ্যে কাজ করে দেশে অর্থ পাঠান। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো, পারিবারিক অর্থনীতি সচল রাখা, শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন এবং গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রংধনু নারী ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান লায়ন শাহিদা পারভীন রতনা ও নাসরিন আক্তার তরফদার রউফ প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রবাসীরা রাতকে দিন এবং দিনকে রাত করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু বিনিময়ে তাঁরা কী ধরনের সম্মান ও ব্যবহার পাচ্ছেন, তা দেশের বিমানবন্দরগুলোর পরিস্থিতির দিকে তাকালেই বোঝা যায়।” বিমানবন্দরে অনেক প্রবাসীকে লাগেজ হারানো, মালামাল চুরি, অপ্রয়োজনীয় হয়রানি, দীর্ঘ অপেক্ষা, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সেবা গ্রহণে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। মেজর ইমরান মিয়া ও কর্নেল ফেরদৌস আজিজ ও আলহাজ ডক্টর শরিফ শাকি ও ইসমাইল খান উপস্থিতি সকল সংসদ সদস্যবৃন্দ। বলেন, একজন প্রবাসী যখন বহু বছর পর দেশে ফেরেন, তখন বিমানবন্দরেই তিনি মাতৃভূমির প্রথম স্পর্শ অনুভব করেন। সেখানে অসম্মানজনক আচরণের শিকার হলে তা শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি অন্যায় নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতে তাঁর অবদানকেও অবমূল্যায়ন করা হয়। রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন শাহিদা পারভীন রত্না বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে যাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, তাঁদের অবহেলা করা চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচয়। কোনো ব্যক্তি বা জাতি অকৃতজ্ঞতার মানসিকতা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে উন্নতি করতে পারে না। সাময়িকভাবে অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখা গেলেও কৃতজ্ঞতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা ছাড়া কোনো সমাজে স্থায়ী শান্তি এবং সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। জালাল উদ্দীন ও হাকিকূল ইসলাম খোকন ও মির্জা সূমন ও রিমন হোসেন ওরেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার ইন্টারন্যাশনাল বলেন, প্রবাসীদের শুধু “রেমিট্যান্স পাঠানোর যন্ত্র” হিসেবে দেখা যাবে না। তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক, দেশের উন্নয়নের অংশীদার এবং জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তাঁদের সম্মান, নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল হক বলেন, তিনি প্রবাসীদের অবদান সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং তাঁদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। দেশের অর্থনীতি, পরিবার ও সমাজে প্রবাসীদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “আমি অকৃতজ্ঞ মানুষ নই। আমি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা এবং সমস্যার সমাধানে আমি শুরু থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছি এবং ভবিষ্যতেও এই সমর্থন অব্যাহত রাখব।” রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের সংসদ পরিবার বলেন বলেন, প্রবাসীদের সমস্যাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। বিমানবন্দরের সেবা উন্নত করা, দূতাবাস ও হাইকমিশনের কার্যক্রমকে প্রবাসীবান্ধব করা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশে ফিরে আসা প্রবীণ প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা জরুরি। লায়ন আঃ কাদির জিলানী বলেন, প্রবাসীদের সম্মান করা মানে দেশের অর্থনীতিকে সম্মান করা। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করা। আর প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা মানে একটি কৃতজ্ঞ, মানবিক ও উন্নত জাতি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়া।” রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ সদস্য পরিবার বলেন, “প্রবাসীদের অর্থ দেশের জন্য গ্রহণ করা হবে, কিন্তু তাঁদের অধিকার ও সমস্যার কথা উপেক্ষা করা হবে—এ ধরনের দ্বিমুখী নীতি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রবাসীদের সম্মান জানাতে হলে তাঁদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।” তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ছয় দফা দাবি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের ব্যক্তিগত স্বার্থের দাবি নয়। এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তাঁদের পরিবারের জীবন, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সাবেক চলমান পরিবার বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের যথাযথ কারিগরি, ভাষাগত ও পেশাগত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বিমানবন্দর, দূতাবাস এবং বিদেশের কর্মক্ষেত্রে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে তাঁদের কল্যাণে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কল্যাণ তহবিল গঠন করতে হবে। সভা পরিচালনাকালে এম. এ. রউফ বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসার নেতৃত্বে প্রবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণের জন্য ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন ও সংগ্রাম পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সরকারের সামনে তুলে ধরা হলেও কোন দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসার উত্থাপিত ছয় দফা দাবি অবিলম্বে নীতিগতভাবে মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার সরকার কে বিনীতভাবে অনুরোধ করেছি। আমরা কোন সরকারের বিপক্ষে নয় সরকারকে আমরা সহযোগিতা দিবো। সভায় বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, দূতাবাস, ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি স্থায়ী সমন্বয় কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। শুধু প্রতিশ্রুতি বা প্রশংসাসূচক বক্তব্য নয়, বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমেই প্রবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। সভা থেকে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য পৃথক সহায়তা ডেস্ক, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, লাগেজ নিরাপত্তা, হয়রানি বন্ধ, প্রবাসীবান্ধব কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অনলাইনে অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ চালুর দাবি জানানো হয়। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, “ দল-মত নির্বিশেষে সরকার, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং দেশের জনগণকে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ছয় দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় অবস্থান গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সংগঠনের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বলেন, জাতীয় সংসদ ও সরকারে প্রবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিন বিদেশে কর্মরত থেকে দেশে ফিরে আসা অসচ্ছল ও প্রবীণ প্রবাসীদের জন্য পেনশন বা ন্যূনতম জীবনধারণ ভাতা চালু করতে হবে। বিদেশে কর্মী পাঠানোর ব্যয় কমিয়ে দালাল ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। “ডিভাইড অ্যান্ড রুল (Divide and Rule): বিভেদ নয়, ঐক্যের পথে মোহাম্মদ আবূল হাশেম সভার সম্মানিত অবস্থিতি সংসদ সদস্য বলেছেন – বিভেদ সৃষ্টি করে কীভাবে মানুষকে দুর্বল করে রাখা হয়।- ধর্ম, জাতি, ভাষা ও মতভেদের মাধ্যমে সমাজে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার অপচেষ্টা। – ঐক্য বিনষ্ট করে ব্যক্তি ও জাতিকে দুর্বল করার কৌশল। – ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামলে “Divide and Rule” নীতির ব্যবহার এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। বিভক্ত সমাজে অবিশ্বাস, অস্থিরতা ও উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার বাস্তবতা- জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্ব। সভায় বক্তারা মত প্রকাশ করবেন যে, বিভেদ নয়—ঐক্যই একটি শক্তিশালী, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সকলকে পারস্পরিক সহযোগিতা, মানবিকতা ও সহনশীলতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের আহ্বান রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে— «”আসুন, আমরা বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা মানুষ হতে চাই, সেবক হতে চাই। দেশ আমাদের মা—দেশকে ভালোবাসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আসুন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করি। মানবতা, সততা ও সেবার আদর্শকে ধারণ করে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

বার্তা প্রেরক:
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
এম. এ. রউফ সদস্য সচিব ও প্রতিষ্ঠাতা
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ.
0097466958035
কম্পিউটার জগৎ লেখায় ভূল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *