যশোরের শার্শা-বেনাপোলে সবুজের সমারোহে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন, বোরোর বাম্পার ফলনের হাতছানি

যশোরের শার্শা-বেনাপোলে সবুজের সমারোহে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন, বোরোর বাম্পার ফলনের হাতছানি

অফিস ডেস্ক :

যশোরের শার্শা-বেনাপোলের দিগন্তবিস্তৃত মাঠজুড়ে এখন শুধু সবুজের মায়াবী হাতছানি। বসন্তের দখিনা বাতাসে দুলছে কচি ধানের ডগা, আর সেই দোলায় লুকিয়ে আছে হাজারো কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। চৈত্রের তপ্ত দুপুরে মাঠ জুড়ানো সবুজ ধানক্ষেতের সেই সতেজ ঘ্রাণ আর ঢেউ খেলানো দৃশ্য জানান দিচ্ছে, এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন কেবল সময়ের ব্যাপার। বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন সেচ দিতে পারায় মাঠে মাঠে বোরো ধানক্ষেতে এমন সবুজের সমারোহ ঘটেছে।

কৃষকরা বলছেন, এবারের বোরো মৌসুমে এখনো পর্যন্ত সেচ নিয়ে তাদের কোনো দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়নি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং চাহিদামতো ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ায় তারা বোরো ক্ষেতে প্রয়োজনমতো সেচ দিতে পারছেন। কৃষকরা বলছেন, বিদ্যুৎ এবং ডিজেলের ওপর তাদের সেচ কাজ নির্ভরশীল। বোরো ধান উৎপাদনের সাথে জড়িত শক্তিশালী এই দুটি উপকরণ নিরবচ্ছিন্ন হওয়ায় তাদের কোনো দুশ্চিন্তার কারণ হয়নি।

শার্শা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ২৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর। যা গত মৌসুমের তুলনায় এবার ২৪ হেক্টর বেশি। গত মৌসুমে ২৩ হাজার ৪১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল।

একদিকে চলছে বৈশ্বিক সংকট, অন্যদিকে এবার গতবারের চেয়ে ২৪ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হলেও সেচ নিয়ে কৃষকের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। এখন লোডশেডিং হলেও কয়েকদিন আগেও কৃষকরা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎসেবা পেয়েছেন। আবার যেখানে ডিজেলচালিত মেশিনের ওপর সেচ নির্ভর, সেখানে কৃষকরা পর্যাপ্ত ডিজেল পেয়েছেন। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ এবং ডিজেলের সমন্বয়ে কৃষক সুবিধা মতো বোরো ধানে সেচ দিতে পেরেছেন।

শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের কৃষক মশিউর রহমান বলেন, ‘এবার ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। এর মধ্যে সাত বিঘা জমি বিদ্যুৎচালিত পাম্পের ওপর এবং তিন বিঘা জমির সেচ ডিজেলচালিত মেশিনের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ এবং ডিজেল কোনোটার ঘাটতি না হওয়ায় আমার সেচ কাজে কোনো সমস্যা হয়নি। কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিয়ে পাম্পে গেলে চাহিদামতো ডিজেল পেয়েছি।’

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (শার্শা জোনাল অফিস) দেবাশীষ কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘সংকটের মধ্যেও এবার সরকারের আন্তরিকতায় আমরা কৃষককে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা দিতে পেরেছি। যে কারণে এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে কৃষক পর্যায়ে কোনো ধরনের অভিযোগ আসেনি। এবার সুষ্ঠুভাবে বোরো মৌসুম সম্পন্ন হয়েছে।’

শার্শা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘বোরো ধানের সেচ নিয়ে আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত কোনো কৃষক অভিযোগ করেনি। চাহিদামতো বিদ্যুতের পাশাপাশি ডিজেল পাওয়ায় বোরো ধানে সেচে কৃষকদের কোনো অসুবিধা হয়নি। গত বছরের তুলনায় এবার ২৪ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে ২৩ হাজার ৪১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল। এবার বোরো মৌসুমে ২৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। ফলনও খুব ভাল হয়েছে। । এর মধ্যে ব্রিধান-৫০, ব্রিধান-৬৩ এবং রেড মিনিকেট জাতের চাষ বেশি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *