আড়ানীতে তুলার ব্যাপক চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি
স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকায় ধান, গম ও শাকসবজির পাশাপাশি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে তুলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে। স্বল্প জমিতে তুলনামূলক কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় দিন দিন তুলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন তারা।
একসময় আড়ানী এলাকায় সীমিত পরিসরে তুলা চাষ হলেও অন্যান্য ফসলের আধিক্যের কারণে তা তেমন গুরুত্ব পায়নি। তবে বর্তমানে তুলার সন্তোষজনক বাজারমূল্য ও ভালো ফলনের কারণে পুরোনো চাষিরা আবার এ চাষে ফিরছেন, পাশাপাশি নতুন কৃষকরাও যুক্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় এক তুলা চাষি বলেন, “আমি বহু বছর ধরেই তুলা চাষ করছি। এতে খরচ কম, পরিচর্যাও তুলনামূলক সহজ। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এখন অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
এ বিষয়ে রাজশাহী জোনের আড়ানী কটন ইউনিটের কর্মকর্তা মো. হোসেন আলী বলেন, “এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের তুলা চাষে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। তুলা চাষ সফল হলে আড়ানী এলাকায় বিকল্প ফসল হিসেবে এর সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।”
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলা চাষ সম্প্রসারিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করতে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ ও নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
তুলা চাষ সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় বর্তমানে মোট ৩০০ জন তুলা চাষি রয়েছেন। এর মধ্যে বাঘা উপজেলায় ২০০ জন এবং চারঘাটে ১০০ জন। চলতি মৌসুমে দুই উপজেলায় তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার মণ। এ বছর বাঘা ও চারঘাট মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৬শ বিঘা জমিতে তুলা চাষ হয়েছে, যার মধ্যে বাঘা উপজেলায় প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে আবাদ হয়েছে।