নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মুন্সীগঞ্জ কোর্টের মালখানার ইনচার্জ হিসেবে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকারী এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি মালামাল আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়ম-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন পুলিশের এক সাবেক সদস্য। গত ২৬ জুন ২০২৬ তারিখে দাখিল করা ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়, মুন্সীগঞ্জ কোর্টের মালখানার ইনচার্জ সিএসআই/ইসমাত আরা খানম ২০১৮ সাল থেকে প্রায় ৯ বৎসর যাবৎ একই কর্মস্থলে কর্মরত থেকে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি মালামাল আত্মসাৎ করেছেন। আবেদনে দাবি করা হয়েছে, আত্মসাৎ করা সরকারি মালামালের আনুমানিক মূল্য দেড় কোটি টাকা।
আবেদনকারী, সাবেক পুলিশ সদস্য এসআই (নিরস্ত্র) মো. হুমায়ুন কবির, অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন একই দায়িত্বে থাকার সুযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা আদালতের মালখানায় সংরক্ষিত বিভিন্ন আলামত ও জব্দকৃত মালামাল অনিয়মের মাধ্যমে বিক্রি ও আত্মসাৎ করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব কর্মকাণ্ডে একটি অসাধু চক্র সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে।
লিখিত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আদালতের মালখানায় সংরক্ষিত বিভিন্ন জব্দকৃত পণ্য ও মালামাল অবৈধভাবে বিক্রির পাশাপাশি মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত আলামত নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলার জব্দকৃত যানবাহন থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনকারী দাবি করেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করলে সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণে অভিযোগের সত্যতা মিলতে পারে। তিনি এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
আবেদনের অনুলিপি বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি এবং ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) কছেও পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগে যে দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে তাহা সিএসআই ইসমাত আরা খানম অস্বীকার করেছে, তবে তার বদলীর বিষয়ে জানান, তাকে কর্তৃপক্ষ দুইবার বদলী করেছে কিন্তু এসপি স্যার পুনর্বহাল করেছেন। কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. কামরুল জানা, দেশের সবচেয়ে দক্ষ, জ্ঞানী ও সৎ একমাত্র ইসফাত আরা খানম। ইসফাত আরা খানমকে বদলী করলে, অন্য কোন যোগ্য ব্যাক্তি পাওয়া কঠিন। মুন্সীগঞ্জ জেলার এসপি মো. মেনহাজুল আলম জানান, সিএসআই ইসফাত আরা খানমকে দুইবার বদলী করা হয়েছে কিনা জানি না। কারণ, আমি কয়েক মাস পূর্বে মুন্সীগঞ্জ জেলায় যোগদান করেছি।