অনলাইন ডেস্ক :
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে টেলিভিশন ও ডিজিটাল মিডিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর সেনানিবাস এলাকায় অনুষ্ঠিত এ সভায় নির্বাচনকালীন গুজব ও অপপ্রচার রোধ, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল—
১. সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা।
২. নিরাপদ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ তুলে ধরে ভোটারদের আস্থা ও উপস্থিতি বাড়াতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা।
৩. নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোথাও দুর্বলতা, হুমকি বা অনিয়মের আশঙ্কা দেখা দিলে তা দ্রুত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার অনুরোধ।
৪. যেকোনো ধরনের গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো রোধে সক্রিয় ও সহায়ক ভূমিকা পালন।
৫. সহিংসতা বা হানাহানি উসকে দিতে পারে—এমন সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও তথ্য যাচাই নিশ্চিত করার আহ্বান।
এছাড়া সভায় নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে গৃহীত ব্যবস্থাগুলোও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন,
দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন,
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার,
সাংবাদিক ও অবজারভারদের মোবাইল ফোনসহ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ,
সুরক্ষা অ্যাপসের ব্যবহার,
পূর্ববর্তী নির্বাচনে চিহ্নিত দুর্বলতা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ।
সভায় আরও বলা হয়, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং সাংবাদিক সমাজের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্টদের অনুরোধেই এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচন কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি, বাহিনী প্রধানদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা এবং প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের ফলে সামগ্রিক অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কা অনেকটাই দূর হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণায় অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হলে তা গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।