ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের বিধবা ভাতাভোগী মালেকা বেগম (৭০) হঠাৎ করেই জানতে পারেন, সরকারি নথিতে তিনি আর জীবিত নেই। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিধবা ভাতা পাওয়ার পর, গত দুই কিস্তি অর্থাৎ ছয় মাস ধরে তার মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবেও ভাতার টাকা জমা হচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি উপজেলা সদরে সমাজসেবা কার্যালয়ে গেলে চাঞ্চল্যকর তথ্যের মুখোমুখি হন—সরকারি নথিতে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে এবং তার স্থলে অন্য একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ কথা শুনে মালেকা বেগম হতবাক হয়ে যান এবং প্রশ্ন করেন, “আমি আবার মরলাম কবে?” তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তিন মাস পরপর মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমে ভাতার টাকা পেতেন এবং স্থানীয় দোকান থেকে টাকা তুলে কোনো রকমে জীবনযাপন করতেন। বর্তমানে ভাতা বন্ধ থাকায় তিনি চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও তিনি এখনও আত্মবিশ্বাসী নন। তার প্রশ্ন, জীবিত থাকা সত্ত্বেও কে বা কারা তাকে মৃত দেখিয়ে এমন ক্ষতি করল?
সমাজসেবা কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছেন, ভাতাভোগীদের কেউ মারা গেলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে অন্য ব্যক্তিকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মালেকা বেগমের ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন মালেকা বেগমের মৃত্যু সনদসহ একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। তার প্রস্তাবে একই গ্রামের মো. আবদুল হাই (৭০) নামের একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এ ঘটনায় যথাযথ তদন্ত হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ইউপি সদস্য রুহুল আমীন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি ভুলবশত ঘটে এবং বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুল ইসলাম আকন্দ জানিয়েছেন, মালেকা বেগম যাতে দ্রুত পুনরায় ভাতার অর্থ পান, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনা মূলত সরকারি নথির ভুল ও যথাযথ যাচাই না হওয়ার কারণে একজন জীবিত মানুষের মৌলিক সুবিধা—ভাতা—বন্ধ হয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্ত।