ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানায় দায়েরকৃত জিআর মামলা নং–১৮(২৫), তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫। মামলাটি রুজু হওয়ার ২১ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লিটন চন্দ্র পাল।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ করে মামলার এজাহারভুক্ত ১নং আসামি মো. তামিম আহমেদ ইফতু (২০), পিতা– মো. মানিক মিয়া, সাং– গোপিনাথপুর, থানা– তারাকান্দা, জেলা– ময়মনসিংহসহ আরও ৩/৪ জন অজ্ঞাতনামা আসামি।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভাষ্যমতে, অপহরণের পর তাকে প্রথমে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানার একটি অজ্ঞাত স্থানে সাত দিন আত্মগোপনে রাখা হয়। এরপর আসামি তামিম তাকে নিজ বাড়িতে এনে একদিন রাখে এবং পরদিন পাশের গ্রামে তার মামার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আটক থাকা অবস্থায় অভিযোগের ভিত্তিতে তারাকান্দা থানার পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই এবং মেডিকেল পরীক্ষা (এমসি) ছাড়াই ভুক্তভোগীকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসার পর পরদিন তাকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং পরীক্ষা শেষে আবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে একাধিকবার তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভির আহাম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আশ্বাস দেন যে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তবে মামলা রুজুর ১৩ দিন পর, ১১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লিটন চন্দ্র পালের কাছে অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি জানান, এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১নং আসামি ছাড়া অন্যান্য আসামিরা নিজ নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছে—এ তথ্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও ২১ দিন পার হলেও তাদের বাড়িতে গ্রেপ্তারের কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি।
এরই মধ্যে ১৯ ও ২০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ভুক্তভোগী ছাত্রী স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় স্কুলের সামনে তার পথ রোধ করে ১নং আসামি তামিম আহমেদ ইফতু। সে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে বলে, “তুই মামলা করে কিছুই করতে পারবি না। আমরা ওসি আর দরোগাকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলেছি। এক মাস হয়ে গেল, আমাদের বাড়িতে পুলিশ তো দূরের কথা, পুলিশের ছায়াও দেখিস নাই। মামলা তুলে না নিলে আবার অপহরণ করে খুন করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেব।”
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লিটন চন্দ্র পাল দাবি করেন, তিনি আসামিদের কাছ থেকে কোনো ধরনের সুবিধা গ্রহণ করেননি। অন্যদিকে ফুলপুর-তারাকান্দা সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, যেহেতু আসামিরা বাড়িতে অবস্থান করছে, তাই তাদের গ্রেপ্তারে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তবে আসামিপক্ষের প্রকাশ্য দাবি—তারা পুলিশকে টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেছে এবং প্রকাশ্যে অবস্থান করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এতে করে তারাকান্দা থানার সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী কি আদৌ ন্যায়বিচার পাবে?
নাকি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে?