গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর মেট্রো থানায় ওসি হিসেবে মোঃ আমিনুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই বদলাতে শুরু করেছে থানার সামগ্রিক চিত্র। নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, অপরাধ দমন ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে অল্প সময়েই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। তবে এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে থানার সেবাপদ্ধতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও নিষ্পত্তির প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় সেবা প্রত্যাশীরা হয়রানিমুক্ত পরিবেশে সেবা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
থানার নিয়মিত কার্যক্রমে ‘বাই সিরিয়াল’ ভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার আস্থার সংকট দূর করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
একান্ত সাক্ষাৎকারে ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন,
“আমি যেখানে থাকি, যতদিন দায়িত্বে থাকি—কোনো মানুষ যেন আমার কারণে হয়রানির শিকার না হন, সেটাই আমার অঙ্গীকার। আমি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আইনগত ও মানবিকভাবে সেবা দিতে প্রস্তুত। অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় নেই।”
তিনি আরও জানান, সদর মেট্রো থানায় যোগদানের পর থেকে ছিনতাইকারী, চোর, ডাকাত, চাঁদাবাজ ও জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কোনো ধরনের তদবির বা অনৈতিক প্রস্তাবে তিনি সাড়া দেননি বলেও জানান।
থানা প্রাঙ্গণে কথা হয় ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, পারিবারিক কলহের অভিযোগ নিয়ে থানায় এলে ওসি নিজে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শুনে শালীন ও কার্যকরভাবে মীমাংসা করে দেন। “এখন আমাদের সংসারে শান্তি ফিরে এসেছে,” বলেন তিনি।
একইভাবে মুজিবুর রহমান নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, পারিবারিক বিরোধের মামলায় হয়রানির আশঙ্কা নিয়ে থানায় গেলে ওসি আমিনুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কর্মকর্তাকে নিরপেক্ষ ও সঠিক প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। এতে তিনি ন্যায়বিচারের আশ্বাস পান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর সদর মেট্রো থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থানার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাতেও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। সুশৃঙ্খল পরিবেশে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে থানার অন্যান্য কর্মকর্তারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন ওসি আমিনুল ইসলাম। ইতোমধ্যে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—পুলিশ হোক জনতার আস্থার ঠিকানা। সেই আস্থার প্রতীক হিসেবেই গাজীপুর সদর মেট্রো থানায় ওসি মোঃ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সেবামুখী থানার দৃষ্টান্ত গড়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।