পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দফায় দফায় মিথ্যা মামলা, শারীরিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হচ্ছেন সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। দৈনিক জনবাণীর স্টাফ রিপোর্টার আনোয়ার হোসেন বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন।এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাকে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পূর্ববর্তী হয়রানি আনোয়ার হোসেন জানান, ইতিপূর্বে দৈনিক বাংলাদেশের আলো ও দৈনিক গণকণ্ঠের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করেন। এর জেরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর থানার সাবেক ওসি সৈয়দ রাফিউল করিম রাফি তাকে একটি ভুয়া মামলায় ৪০(০৫)২০২৪ নং মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেন। তবে পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে বাদীকে খুঁজে না পাওয়ায় আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। গত ০৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সদর থানার সামনেই সন্ত্রাসীরা আনোয়ার হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ইট দিয়ে তার পা থেঁতলে দেয়। এ ঘটনায় তার মা মামলা দায়ের করলে দেশজুড়ে সাংবাদিকরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
অভিযোগ উঠেছে, গত ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে জিএমপির সাবেক কমিশনার নাজমুল করিম খানকে নিয়ে একটি সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি একটি মহলের প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। সংবাদ প্রকাশের মাত্র তিন দিন পর, ২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তার বিরুদ্ধে ১৮ দিন আগের একটি সাজানো ঘটনায় ৩৮৫/৩৮৬ ধারায় আরেকটি মিথ্যা মামলা (নং ৪৪(০৮)২৫) দায়ের করা হয়।
পলাতক আসামিকে দিয়ে মামলা বিস্ময়কর বিষয় হলো, সাংবাদিক আনোয়ারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী রাজু সাহা নিজেই প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলার (নং ১৩(১০)২৪) প্রধান পলাতক আসামি। একজন পলাতক আসামিকে ব্যবহার করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি গাজীপুর তদন্ত করছে।
আনোয়ার হোসেন জানান, গত ০৮ আগস্টের পর থেকে তিনি গাজীপুরে অবস্থান না করলেও তাকে দমানোর জন্য নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালের একটি পুরনো গণপিটুনির ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে এবং ডিবি পুলিশকে ব্যবহার করে গ্রেফতারের পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
“পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আজ যাযাবরের মতো জীবনযাপন করছে। একের পর এক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।”