বিশেষ প্রতিবেদন :
রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘ভাষা প্রশিক্ষণ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজনে দেশ-বিদেশের ছয় শতাধিক কবি, সাহিত্যিক, প্রকাশক, পাঠাগার প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ‘সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষার দক্ষতা বিকাশে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনের আয়োজন ছিল। দেশ-বিদেশের কবি, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ, প্রকাশক, পাঠাগার প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও গবেষকেরা আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খায়েম। উদ্বোধন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান আলোচক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ আলোচক ছিলেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মাহদি মোলারি আরানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইয়াং হুই, সাবেক সচিব ও কবি অ্যাডভোকেট গরিব নেওয়াজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন রুন্ন এবং অন্যরা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক (উপসচিব) ড. অশোক কুমার বিশ্বাস। বিশেষ বক্তা ছিলেন নেপালের কাঠমান্ডুর ইউনিক প্রো কেয়ারের পরিচালক তিলক জং খদ্রা এবং আন্তর্জাতিক কবি, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক, মুক্তিযুদ্ধের লেখক ও গবেষক, অনুবাদক এবং সাহিত্য সংগঠক সৈয়দ মজহারুল পারভেজ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইসলাম উদ্দিন, আনোয়ারুল হোসেন ফকির, আনোয়ার হোসেন ফকির, প্রিন্সিপাল তমিজ উদ্দিন, রিয়াজ মাহমুদ, রহমান রাজীব, মাহফুজ উল হক শুভ, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, শাহনাজ পারভিন বেবী, ছিদ্দিক আলী, অমর চন্দ্র মণ্ডল, ফজলুর রহমান বকুল, দেওয়ান মুকুল, মাহবুব আলম, সোহেল আমলিগোলা ও খোকন। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন লেখক ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি শ্যামসুল হক বাবু এবং আয়োজক কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক এম মিরাজ হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি ও গীতিকার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের বান্দরবান শাখার শিল্পী প্রকাশ চন্দ্র বড়ুয়া, আবৃত্তিশিল্পী ও বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক-সংবাদ পাঠক জেবুন্নেসা মুনিয়া এবং বান্দরবানের প্রধান শিক্ষক জয়নাব। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কারীর মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা থেকে উপস্থিত ছিলেন শ্রদ্ধেয় মামা, শিক্ষক ও আমেরিকাপ্রবাসী মো. মাহমুদুল হক দুলাল, শিক্ষক ও কবি বিশ্বজিৎ কুমার দাস, সাবেক মহাব্যবস্থাপক আবদুল জলিল, বড় ভাই রাজু সরকার, ছোট ভাই ইমরান দেওয়ান এবং তমালিকা দাস। আলোচনায় অতিথিরা বাংলা ভাষার পাশাপাশি চীনা ও ইরানি ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে শেখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। আয়োজকদের মতে, ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের কবি, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।