হাকিকুল ইসলাম খোকন,
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি,
নিউইয়র্কের কুইন্সে ৩০তম অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান মাত্র ১৩ হওয়ায় ফল নির্ধারণে পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে কুইন্স কাউন্টি ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থিত প্রার্থী প্যাট্রিক মার্টিনেজ সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ফল এখনো অনিশ্চিত।বুধবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনায় মার্টিনেজ পেয়েছেন ২ হাজার ৭০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সাবেক ডিটেকটিভ ও প্রগতিশীল প্রার্থী শামসুল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯০ ভোট। নিউইয়র্ক সিটির বোর্ড অব ইলেকশনস জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন আইন অনুযায়ী জয়ের ব্যবধান ২০ ভোটের কম অথবা মোট ভোটের শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বা তার কম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্গণনা করা হয়। সে অনুযায়ী এই আসনের ভোটও পুনর্গণনা করা হবে। নির্বাচনে নেপালি কমিউনিটির নেতা সোমনাথ ঘিমিরে ৬৮৯ ভোট পেয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার প্রাপ্ত ভোট দুই প্রধান প্রার্থীর লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। এদিকে নির্বাচনে ৫০০-এর কিছু বেশি ডাকযোগে (মেইল-ইন) ব্যালট ইস্যু করা হলেও এখনো কতটি ব্যালট গণনার বাইরে রয়েছে, তা নিশ্চিত করেনি নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। ফলে পুনর্গণনার পাশাপাশি অবশিষ্ট বৈধ ব্যালটও চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ফল ঘোষণার পর প্যাট্রিক মার্টিনেজ বলেন, "এটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। প্রতিটি ভোট গণনার যোগ্য। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।" অন্যদিকে শামসুল হক বলেন, "এটি খুবই ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রতিটি ব্যালটের মূল্য রয়েছে। আমরা চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় আছি এবং বোর্ড অব ইলেকশনসের ওপর আস্থা রাখছি যে প্রতিটি ভোট নির্ভুল ও ন্যায্যভাবে গণনা করা হবে।"
উল্লেখ্য, কুইন্সের এই আসনটি শূন্য হয়েছে অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগার পদত্যাগের পর। তার উত্তরসূরি নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এখন পুনর্গণনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।